সঞ্চয় তলানিতে, বাজারে চওড়া চাহিদা! শুল্কমুক্ত আমদানির পরেও কেন মহার্ঘ হতে চলেছে চিনি?

উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য চিনির বাজার নিয়ে এল এক নতুন তথ্য। কেন্দ্রীয় সরকার শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির অনুমতি দিলেও চলতি মরসুমে দেশে চিনির দাম প্রায় ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশিষ্ট গবেষণা ও বিশ্লেষণ সংস্থা ক্রিসিল (Crisil) ইন্টেলিজেন্স। মূলত গুদামে পর্যাপ্ত মজুত কম থাকা এবং দেশের বাজারে চিনির ব্যাপক চাহিদার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এই সময়োপযোগী আমদানি সিদ্ধান্তের ফলে দামের ঊর্ধ্বমুখী গতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে।
পূর্বাভাস সামান্য কমল ক্রিসিলের এর আগে ক্রিসিলের তরফে চিনির দাম ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই পূর্বাভাস কিছুটা সংশোধন করা হয়েছে। ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত জোগান বাজারে আসায় চিনির দামের বৃদ্ধি আগের তুলনায় খানিকটা কমবে। তাদের পূর্বের ৯ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসের বদলে এখন দাম প্রায় ৭ শতাংশ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ সালের চিনি মরসুমে (SS26), যা অক্টোবর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বজায় থাকবে। সংস্থার মতে, আমদানি চালুর পরেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে দাম বাড়ার এই প্রবণতা দেখা যাবে। যদিও এই বৃদ্ধি বিগত দিনের ১৫ থেকে ২০ শতাংশের আশঙ্কার তুলনায় ৩০০ থেকে ৫০০ বেসিস পয়েন্ট কম হবে।
আমদানির সিদ্ধান্ত ও মজুতের হিসাব বাজারে জোগানের ঘাটতি মেটাতে সরকার ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ মেট্রিক টন (১ মিলিয়ন টন) অপরিশোধিত চিনি আমদানির ছাড়পত্র দিয়েছে। এর ফলে SS26 মরসুমের শেষে মজুতের পরিমাণ ৩.৯ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ৪.৯ মিলিয়ন টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যেখানে আগে মাত্র দেড় মাসের মতো মজুত হাতে থাকত, তা বেড়ে এখন প্রায় দু’মাসের কাছাকাছি দাঁড়াবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই মরসুমে চিনির উৎপাদন প্রায় ৮ শতাংশ বাড়ার অনুমান করা হলেও বছরের শুরুতে মজুতের ঘাটতি এবং দেশজুড়ে বাড়তি চাহিদার কারণে গোটা সাপ্লাই চেইনের ওপর চাপ বজায় থাকবে।
চিনি মিলগুলির মার্জিন ও সরকারি কড়াকড়ি চিনি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে ক্রিসিলের পূর্বাভাস বলছে, চলতি SS26 মরসুমে তাদের Ebitda মার্জিন বা লাভের হার মাত্র ৫০ বেসিস পয়েন্টের মতো বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ একদিকে চিনির দাম বাড়লেও অন্যদিকে আখ উৎপাদনের খরচও সমানতালে বাড়ছে। হিসেব অনুযায়ী, আখের ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য (FRP) ৪.৪ শতাংশ এবং রাজ্য নির্ধারিত মূল্য (SAP) ৮.৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে পরবর্তী SS27 মরসুমে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
খুচরো বাজারের লাগাম টানতে এবং উৎসবের মরসুমে জোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রায় এক দশক পর সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের বড়সড় আমদানি নীতি নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, বাজারে কালোবাজারি বা বেআইনি মজুতদারি রুখতেও কঠোর পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। ডিলারদের জন্য ৪০০ টনের স্টক লিমিট, শিল্প গ্রাহকদের জন্য ১৫ দিনের ইনভেন্টরি ক্যাপ এবং মিল থেকে মাল তোলার ৭ দিনের মধ্যে তা তুলে নেওয়ার মতো একাধিক নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।