তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন! ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ হেভিওয়েট নেতাকে বহিষ্কার করলেন মমতা

রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট এখন চরমে। সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলের সমান্তরাল নেতৃত্বের ঘোষণা করার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হানল ‘কালীঘাট-তৃণমূল’। দলবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রাজ্যের দাপুটে নেতা ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে দল থেকে সরাসরি বহিষ্কার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন এই বড় সিদ্ধান্ত? সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করে, তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’। শুধু তাই নয়, অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারপার্সন এবং ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে ভাইস-চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই সমান্তরাল সংগঠন গঠনের পরই কালীঘাট শিবিরের পক্ষ থেকে এই নেতাদের শোকজ করা হয় এবং আজ তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সংগঠন সামলাতে নতুন কৌশল: এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পুরনো শিবির বা ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ সংগঠনকে মজবুত করতে কিছু তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

  • পদ বণ্টনে সতর্কতা: এখন থেকে আর তাড়াহুড়ো করে দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হবে না। প্রতিটি পদক্ষেপ খুব ভেবেচিন্তে নেওয়া হবে।

  • জনতার দরবার: দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন থেকে সপ্তাহের প্রতিদিন বিকেল ৩টে থেকে ৭টা পর্যন্ত কালিঘাটে ‘জনতার দরবার’ করবেন। এই জনসংযোগের মাধ্যমেই তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে চায় নেতৃত্ব।

  • আইপ্যাকের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস: রণকৌশল নির্ধারণে এখন থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার ওপর একশো শতাংশ নির্ভর না করে সংগঠনকে আগের মতো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের এই পদক্ষেপ কার্যত স্পষ্ট করে দিল যে, দলে ভাঙন রোধে তারা এখন কঠোর অবস্থানে। তবে শুধু বহিষ্কারই নয়, বিধানসভাতেও ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতি এখন তীব্র উত্তেজনার কেন্দ্রে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *