দলে অস্থিরতার মধ্যেই বিদেশ সফর? অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন নানাবিধ আলোচনার ঝড়, ঠিক তখনই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরের আবেদন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। চোখের চিকিৎসার জন্য প্রায় এক সপ্তাহের বিদেশ সফরের অনুমতি চেয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক।
আদালতে আবেদন: মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই আবেদন জমা পড়েছে। আদালত সূত্রে খবর, বুধবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল যে, আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। সেই আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই তাঁকে নতুন করে আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপ ও জল্পনা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর ঘিরে বিরোধী শিবির ও রাজনৈতিক মহলে চর্চার শেষ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যখন খানিকটা অস্থির, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের এই সফর বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও শারীরিক চিকিৎসার বিষয়, এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। দল বর্তমানে সম্পূর্ণ সুসংগঠিত এবং শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
আইনি প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফর নতুন নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার আদালতের অনুমতি নিয়ে বিদেশে গিয়েছেন। প্রায় তিন বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-কে অবহিত করার কথা বলা হয়েছিল। সেই আইনি ধারাবাহিকতা মেনেই এবারও তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা: আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চোখের চিকিৎসা তাঁর জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং তার জন্যই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিদেশে যাওয়া প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, আদালত এই মানবিক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত আবেদনটিকে আইনি প্রেক্ষাপটে কীভাবে বিচার করে এবং আগামীকাল শুনানিতে কী রায় আসে।