লাভপুরে পুলিশের বড় সাফল্য! ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি

রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই জেলায় জেলায় তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারের হিড়িক শুরু হয়েছে। এবার বীরভূমের লাভপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলায় পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন লাভপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সালাম শেখসহ মোট ৪ জন।
পুলিশি অভিযান: সোমবার গভীর রাতে লাভপুর থানার পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর এই চার নেতাকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মূলত ভোট-পরবর্তী হিংসা ও এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবারই তাদের বোলপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে গ্রেপ্তারের ঢেউ: শুধু লাভপুর নয়, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এখন আইনি খাঁড়া নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যায়:
-
দুর্গাপুর: ব্লক সভাপতি তথা বিদায়ী কাউন্সিলর রাজীব ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায়। আদালতে তোলার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ও জুতো হাতে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
-
জয়নগর: বেআইনি অস্ত্র রাখা ও খুনের হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুব তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি সুব্রত মণ্ডলকে।
-
খড়দা: পুকুর ভরাট ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রসেনজিৎ সাহাকে।
-
দক্ষিণ দিনাজপুর: অবৈধ বালি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বংশীহারির পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নিত্যাশিস মজুমদারকে।
তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা: রাজ্যে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই দলের একাংশের নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ছে। কোথাও নেতাদের কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে, আবার কোথাও সাধারণ মানুষ টাকা ফেরতের দাবিতে পুরপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করছেন (যেমন হাবড়ায় পুরপ্রধান নারায়ণ সাহার ঘটনা)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই নেতাদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা দলটির বর্তমান চরম সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একের পর এক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ক্রমশ বাড়ছে।