বিধানসভায় তৃণমূল বনাম তৃণমূল! ঋতব্রত উঠতেই সদন ছাড়লেন কুণাল, কেন এই অস্বস্তি?

বিধানসভার অন্দরেই কার্যত মুখোমুখি দুই তৃণমূল! মঙ্গলবার বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরের ‘বিদ্রোহী’ মুখ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিতে উঠতেই সদন ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন দলের অন্য এক প্রভাবশালী নেতা কুণাল ঘোষ। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন এই নাটকীয় দৃশ্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

কী ঘটেছিল বিধানসভায়? ঘটনার সূত্রপাত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সময়। নিজেকে খাতায়-কলমে ‘বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরে ঋতব্রত দাবি করেন, রাজনৈতিক ভাবে কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ভয় দেখিয়ে শাসন করা সমীচীন নয়। তাঁর কথায়, “আমরা হারিনি, আমরা জিতেছি—এটা বলা ঠিক নয়। বাংলার মানুষ রায় দিয়েছে, বিপুল ভোটে আপনারা জিতেছেন, সেটা মানছি। কিন্তু ভয় আউট, ভরসা ইন—এই স্লোগান বা রাজ্যপালকে জয় বাংলা বলতে বাধ্য করা—এসব রাজনৈতিক সৌজন্যের মধ্যে পড়ে না।”

কুণালের অস্বস্তি ও প্রস্থান: ঋতব্রতর এই ‘বিদ্রোহী’ সুর কানে যেতেই কুণাল ঘোষকে কার্যত ক্ষুব্ধ দেখা যায়। ঋতব্রত যখন সরকারি কাজকর্মের সমালোচনা করছিলেন, ঠিক তখনই কুণাল ঘোষ কোনো বাক্যব্যয় না করেই বিধানসভার হাউজ থেকে বেরিয়ে যান। রাজনৈতিক মহলের মতে, কুণালের এই প্রস্থান মূলত ঋতব্রতর বক্তব্যের প্রতি নীরব প্রতিবাদ।

ঋতব্রতর বিস্ফোরক মন্তব্য: এদিন নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে ঋতব্রত সরাসরি বলেন, “আমাকে অবশ্য সরকার বলেনি ১০ বছর মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকুন।” অর্থাৎ, দলের একাংশের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে বলেই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। এদিন বিধানসভায় তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে বলেন, যারা উন্নয়নমূলক কাজ করেননি, তাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া বন্ধ করা উচিত।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: খাতায়-কলমে তৃণমূলের বিধায়ক হলেও, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক নানা মন্তব্য দলের মূল ধারার সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ বরাবরই ‘মমতাপন্থী’ হিসেবে দলের শৃঙ্খলার পক্ষে সরব থাকেন। বিধানসভার মেঝেতে তৃণমূলের এই দুই শিবিরের সংঘাত আসন্ন দিনে দলের অন্দরে আরও বড় কোনো ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *