ভোজপুর এনকাউন্টার কাণ্ড: বড়সড় অস্বস্তিতে বিহার পুলিশ, ৫ পুলিশকর্মী বরখাস্ত!

ভোজপুরের কুখ্যাত ভারত তিওয়ারি এনকাউন্টার মামলায় বিহার পুলিশ সদর দপ্তর অবশেষে অভিযানের গুরুতর ত্রুটি স্বীকার করেছে। বিহার পুলিশের এডিজি (আইন ও শৃঙ্খলা) সুধাংশু কুমার সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ১৬ জুনের এই এনকাউন্টারটি পুলিশের যথাযথ কার্যপ্রণালী মেনে পরিচালিত হয়নি। এই গাফিলতির জেরে ইতিমধ্যেই ৫ পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তের তালিকায় যারা: প্রাথমিক তদন্তে পুলিশি অভিযানে চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় শাহপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (SHO) রাজেশ মালাকারসহ মোট ৫ জনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন সাব-ইন্সপেক্টর, একজন এএসআই এবং একজন কনস্টেবল রয়েছেন।
বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত: রাজনৈতিক চাপ ও জনরোষের মুখে রাজ্য সরকার পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডিআইজি (শাহাবাদ রেঞ্জ)-কে পুরো ঘটনার তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখনও অমীমাংসিত মূল প্রশ্ন: পুলিশ ত্রুটি স্বীকার করলেও এনকাউন্টারের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্য এখনও জট পাকিয়ে আছে:
-
গুলি চালিয়েছিল কে? ভরত তিওয়ারিকে যে চারটি গুলি করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে কারা? একই পুলিশকর্মী নাকি একাধিক জন এই গুলি চালিয়েছেন?
-
ভাইরাল ভিডিওর রহস্য: প্রাক্তন থানা ইন-চার্জ রাজেশ মালাকারের একটি ভাইরাল ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে তিনি দাবি করেছেন এসটিএফ কর্মকর্তা অক্ষয় গুলি করেছিলেন এবং সেটি নাকি পায়ে লেগেছিল। তাহলে মৃত্যুর কারণ কী? এই ভিডিওটি এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আদালতে আইনি লড়াই: ঘটনাটি এখন পাটনা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট—উভয় ক্ষেত্রেই বিচারাধীন। ভরত তিওয়ারির মৃত্যুকে ‘ভুয়ো এনকাউন্টার’ বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। আইনজীবী বিশাল তিওয়ারির দায়ের করা পিটিশনে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিহারের এই বিতর্কিত এনকাউন্টার মামলাটি এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে উঠেছে। পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন এবং আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন।