আইটিআর (ITR) ফাইলে ভুল করছেন না তো? সামান্য ভুলে আসতে পারে আয়কর দপ্তরের নোটিশ!

আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের মরশুম শুরু হয়ে গেছে। অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার ২০২৬-২৭-এর জন্য করদাতারা দ্রুত তাদের রিটার্ন ফাইল করছেন। তবে এবারের বিষয়টি একটু আলাদা; আয়কর দপ্তর এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর মাধ্যমে তথ্য যাচাই করছে, ফলে সামান্য ভুলও আপনার বাড়িতে আয়কর দপ্তরের নোটিশ বয়ে আনতে পারে। রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে এই সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন:

১. ভুল ফর্ম নির্বাচন: এটিই সবচেয়ে বড় ভুল। আপনার আয়ের উৎস অনুযায়ী সঠিক ফর্ম বেছে নিন। যেমন—যদি আপনার বিদেশি সম্পত্তি থাকে বা ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে ১.২৫ লক্ষ টাকার বেশি দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভ (LTCG) হয়ে থাকে, তবে আপনি সাধারণ ITR-1 ফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন না; আপনাকে ITR-2 বেছে নিতে হবে। আবার যারা শেয়ার বাজারে F&O ট্রেডিং করেন, তাদের ITR-3 ফর্ম পূরণ করতে হবে।

২. আয়ের তথ্য গোপন করা: ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টের সামান্য সুদ, লভ্যাংশ (Dividend) বা আগের কোনো চাকরির বেতন—এসব আয়ের তথ্য গোপন করবেন না। প্যান কার্ডের মাধ্যমে আয়কর বিভাগ সহজেই টিডিএস (TDS) স্টেটমেন্ট ও ব্যাংকের তথ্যের সাথে আপনার দাখিল করা রিটার্ন মিলিয়ে নিতে পারে।

৩. ভুয়া বা অসম্পূর্ণ ছাড়ের দাবি: বিনা প্রমাণে HRA (House Rent Allowance) বা দান (Donation)-এর ওপর করছাড় পাওয়ার চেষ্টা করবেন না। বিশেষ করে বাবা-মাকে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে রেন্ট এগ্রিমেন্ট ও পেমেন্টের উপযুক্ত প্রমাণ রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার বাবা-মাকেও সেই ভাড়া তাদের রিটার্নে আয়ের উৎস হিসেবে দেখাতে হবে।

৪. AIS ও Form 26AS-এর সাথে গরমিল: রিটার্ন ভরার আগে অবশ্যই আপনার অ্যানুয়াল ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (AIS), ট্যাক্স ইনফরমেশন স্টেটমেন্ট (TIS) এবং Form 26AS মিলিয়ে দেখুন। তথ্যে কোনো অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেট এন্ট্রি থাকলে আয়কর পোর্টালে গিয়ে আগেই ফিডব্যাক দিন।

৫. ই-ভেরিফিকেশন ভুলে যাওয়া: রিটার্ন জমা দিলেই কাজ শেষ হয় না। রিটার্ন দাখিলের পর তা ই-ভেরিফাই করা বাধ্যতামূলক। সময়মতো এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে আপনার রিটার্ন অকার্যকর বলে গণ্য হতে পারে।

ডেডলাইন ও জরিমানা:

  • ITR-1 বা ITR-2 এর জন্য: ৩১ জুলাই ২০২৬।

  • ITR-3 বা ITR-4 (অডিট ছাড়া) এর জন্য: ৩১ আগস্ট ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন ফাইল করলে আয়ের ওপর ভিত্তি করে ১,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

সুতরাং, শান্ত মাথায় সঠিক তথ্য যাচাই করে তবেই রিটার্ন দাখিল করুন। কোনো বিভ্রান্তি থাকলে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা পেশাদার কর উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *