নামের দৈর্ঘ্যই কাল! ব্যাংকের নিয়মে আটকে গেল কোটি কোটি টাকার ট্যাক্স রিফান্ড

আয়কর রিফান্ড বা ট্যাক্স রিফান্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেকের জন্যই দুঃসংবাদ। ফিন্যান্সিয়াল ইয়ার ২০২৬ থেকে ট্যাক্স রিফান্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)। কিন্তু এই নতুন রিয়েল-টাইম ভেরিফিকেশন সিস্টেমের একটি ছোটখাটো প্রযুক্তিগত ত্রুটি এখন বড় আকার ধারণ করেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নাম ‘লম্বা’ হওয়ার কারণে আটকে গেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

ঠিক কোথায় সমস্যা? প্রযুক্তিগত এই অসংগতিটি মূলত নাম লেখার সীমানা বা ‘ক্যারেক্টার লিমিট’-কে কেন্দ্র করে:

  • ব্যাংক সিস্টেম: ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের নামে ১০০টি অক্ষর (Characters) পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

  • এনপিসিআই (NPCI) সিস্টেম: নতুন ভেরিফিকেশন সিস্টেমটি কেবল ৫০টি অক্ষর পর্যন্ত সমর্থন করছে।

এর ফলে, যেসব ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর নাম ৫০ অক্ষরের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে সিস্টেম ‘মিসম্যাচ’ (Mismatch) এরর দেখাচ্ছে। অর্থাৎ, এনপিসিআই-এর সফটওয়্যার ব্যাংকের ডাটাবেসের নামের সাথে ভ্যালিডেশন মেলাতে পারছে না।

কাদের ওপর প্রভাব পড়ছে? এই জটিলতায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন পেনশন ফান্ড। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নাম সাধারণত বেশ বড় হয় এবং তাতে অনেক শব্দ বা অক্ষর থাকে। এই কারিগরি ত্রুটির কারণে অ্যাকাউন্টের ভ্যালিডেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ট্যাক্স রিফান্ড পাওয়ার ওপর।

এখন করণীয় কী? এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সমাধান এখনও ঘোষণা করেনি, তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে:

  • বিনিয়োগকারীরা তাদের নিজ নিজ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে নামের বানান বা দৈর্ঘ্য কমানোর সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে পারেন।

  • সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এনপিসিআই-এর সিস্টেম আপগ্রেড বা লিমিট বাড়িয়ে ১০০ করার দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীরা এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *