তৃণমূলে মহাবিপ্লব! মমতা-অভিষেককে দল থেকেই বহিষ্কার ঋতব্রতর ‘আসল তৃণমূল’-এর?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো রাজ্যবাসী। বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল কালীঘাটের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের অভিযোগ তুলে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকেই অপসারণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কীভাবে ঘটল এই নাটকীয় পালাবদল? মাত্র মাসখানেক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু রাজনীতির অলিগলিতে ভোল বদলাতে সময় লাগল না খুব একটা। বহিষ্কৃত ঋতব্রত অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাঁর সংগঠিত শক্তিকে শক্তিশালী করে তুলেছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই দল এখন কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।

দলত্যাগের হিড়িক: ঋতব্রতর এই নতুন শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের যোগদানে। একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদ তৃণমূলের মূল স্রোত ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন ঋতব্রতর শিবিরে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের এই ভাঙন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভবিষ্যতের দিকে নজর: মমতা ও অভিষেকের মতো শীর্ষ নেতাদের সরানোর এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতি এখন চরম উত্তপ্ত। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—ঋতব্রতর এই ‘আসল তৃণমূল’ কি সত্যিই মূল দলের বিকল্প হয়ে উঠছে, নাকি এটি কেবলই এক সাময়িক রাজনৈতিক অস্থিরতা? পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *