সম্পত্তির বিবাদে খুড়তুতো ভাইকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন! ভাঙড়ে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ অভিযুক্তের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ডিভিশনে সম্পত্তি বা পারিবারিক শত্রুতার জেরে এক বীভৎস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গেল। খুড়তুতো ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোরগোল ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর খুনের তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন রাতে?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার রাত ৯টা নাগাদ মাধবপুর–বেলিয়াডাঙা রাস্তার ওপর মাদ্রাসার কাছে ৩৮ বছর বয়সি আতাবুদ্দিন মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। এই প্রাণঘাতী হামলার মূল অভিযুক্ত হলেন তাঁরই খুড়তুতো ভাই গুলাম সারওয়ার মোল্লা (৩৫) এবং অপর এক যুবক গুলাম মোস্তাফা

আক্রমণের পর গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা আতাবুদ্দিনকে প্রথমে একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যান, কিন্তু সেখান থেকে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আরও একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখান থেকেও তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত নলমুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আত্মসমর্পণ ও তদন্তের আপডেট

ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়রা হতবাক হয়ে যান। এদিকে, অপরাধের পরেই মূল অভিযুক্ত গুলাম সারওয়ার মোল্লা নিজে মাধবপুর থানায় হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। মৃতের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১০৩(১) ও ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করে। তবে এই ঘটনার অপর অভিযুক্ত গুলাম মোস্তাফা এখনও পলাতক রয়েছে এবং তাঁর খোঁজে পুলিশ চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে।

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, এই নৃশংস খুনের প্রকৃত ও আসল কারণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। মূল অভিযুক্তকে রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে পুলিশ। তবে গুলাম সারওয়ার লাগাতার তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠছে। ঘটনার গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা বুঝে লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারাও সমান্তরাল তদন্ত শুরু করেছেন এবং আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন।

Samrat Das
  • Samrat Das

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *