গভীর রাতে কুঁড়েঘরে ঘুমন্ত মহিলার ওপর বাঘের মর্মান্তিক হামলা! মাথা কামড়ে ৩০০ মিটার দূরে টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

গভীর রাতে কুঁড়েঘরে ঘুমিয়ে থাকা এক মহিলার উপর মর্মান্তিক হামলা চালাল একটি বন্য বাঘ। ঘরের ভিতর থেকে ঘুমন্ত মহিলার মাথা কামড়ে ধরে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে টেনে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠল বন্যপ্রাণীটির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহসিকতা ও তৎপরতায় বাঘটি পালিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাদেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ওই মহিলার। রবিবার ভোররাতে রোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায়।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
বিশ্বখ্যাত কানহা জাতীয় উদ্যানের (Kanha National Park) খাপা রেঞ্জের অন্তর্গত পররাপুর বৈগাটোলা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। জেলা সদর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের ওই গ্রামে গত রবিবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত দেড়টা নাগাদ বাঘটি আচমকাই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
নিহত মহিলার নাম সুগনি বাই ধুরভে। তিনি সেদিন একটি ছোট্ট কুঁড়েঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। সেই সুযোগেই বাঘটি ঘরে ঢুকে তাঁর মাথা কামড়ে ধরে বাইরে জঙ্গল বা ফাঁকা জমির দিকে টেনে নিয়ে যায়। পরিবার ও স্বজনদের চিৎকার-কান্নাকাটি শুনে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের শত শত মানুষ টর্চ হাতে নিয়ে ছুটে আসেন। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাঘটি জখম মহিলাকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ফেলে রেখে গভীর জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
হাসপাতালের মর্মান্তিক পরিণতি ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত বাইহারের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু মহিলার মাথায় ও সারা শরীরে মারাত্মক ক্ষত ও রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। কানহা জাতীয় উদ্যানের সিজহোরা বাফার জোনের সহকারী অধিকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে উচ্চপর্যায়ের রিপোর্ট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে মৃতার পরিবারটি অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং তাঁদের বাসস্থানটি ছিল একেবারেই দরজাবিহীন। সরকারি আবাসন প্রকল্পের কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই দিন কাটছিল তাঁদের। এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে বন দফতর। এলাকায় অবিলম্বে একটি খাঁচা বসানোর পাশাপাশি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় টহলদারি আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাতের বেলায় ঘরের দরজা ভালোভাবে বন্ধ রাখার এবং অকারণে জঙ্গলমুখী না হওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে।