কাশ্মীর ও বারাণসী নিয়ে পাকিস্তানের উস্কানিমূলক মন্তব্যের কড়া জবাব ভারতের, প্রত্যাখ্যাত জারদারির বয়ান!

ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বারাণসীর মসজিদ সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারির সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান’ করেছে ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়েছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো অধিকার বা এক্তিয়ার পাকিস্তানের নেই।
ভারত কেন এই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জারদারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন:
অযৌক্তিক মন্তব্য: ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা পাকিস্তান রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অভিসন্ধিপ্রণোদিত আক্রমণ।
মানবাধিকার রেকর্ড: জয়সওয়ালের মতে, পাকিস্তানের নিজেদেরই ভয়াবহ মানবাধিকার রেকর্ড রয়েছে, যা নিয়ে আজ বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। যে দেশ নিজেই সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে অভিযুক্ত, তাদের মুখে অন্যের বিষয়ে কথা বলা হাস্যকর।
পরিকল্পিত নিপীড়ন: পাকিস্তান বিভিন্ন ধর্মের সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও নির্যাতনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা বিশ্ববাসীর কাছে সুপরিচিত।
জয়সওয়ালের ভাষায়, “রাষ্ট্রপতির এই বিবৃতি পাকিস্তানের গোঁড়ামি ও ঘৃণার জাতীয় নীতি দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি ইচ্ছাকৃত রাজনৈতিক আক্রমণ।”
কী নিয়ে ছিল বিতর্ক?
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে কাশী রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য একটি উচ্ছেদ অভিযানের অংশ হিসেবে ‘গঞ্জ শাহিদা মসজিদ’-কে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ আইনি নোটিশ প্রদান করে। এই নোটিশের প্রেক্ষিতেই জারদারি মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিপন্ন হচ্ছে।
এই মন্তব্য ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান যেন নিজেদের ঘর সামলানোর দিকে মন দেয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভাষ্য যে কতটা অমূলক, তা-ই পুনরায় বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে দিল ভারত।