সুইজারল্যান্ডে কি হবে শান্তির পথে বড় চুক্তি? আমেরিকা-ইরান আলোচনার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব!

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ফের নতুন আশার আলো দেখছে বিশ্বরাজনীতি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা আবার সঠিক পথে ফিরছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। সূত্রের খবর, আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছেন। এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য: উভয় দেশের প্রতিনিধিরা পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই বড় সংকটগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যা থাকছে: সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হবে:
-
পারমাণবিক বিতর্ক: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থা নিরসন।
-
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা: ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং কোটি কোটি ডলারের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরতের বিষয়টি।
-
তেল ও বাণিজ্য: হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এ ক্ষেত্রে ইরানের সহযোগিতা।
-
পুনর্নিমাণ তহবিল: লেবানন ও অন্যান্য অঞ্চলে সংঘাত পরবর্তী পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন।
প্রেক্ষাপট: যদিও লেবাননে উত্তেজনার কারণে এই আলোচনা কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ফের আলোচনার দরজা খুলে গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স শুরুতে সফর বাতিল করলেও, এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার ইতিমধ্যেই সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন, যা এই বৈঠককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
শান্তি কি স্থায়ী হবে? প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির স্বপক্ষে সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান বর্তমানে চাপে রয়েছে এবং আমেরিকার এই পদক্ষেপ কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শান্তির পথ। তবে ৬০ দিনের এই সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু বলা কঠিন। এখন সব চোখ সুইজারল্যান্ডে, যেখানে বসেই নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে নাকি ফের উত্তপ্ত হবে পরিস্থিতি।