৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ভেস্তে গেল শান্তি চুক্তি! আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করল ইরান

জি-৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পথে। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত? ইরান জানিয়েছে, চুক্তির প্রধান শর্তই ছিল লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার ঘটনাকে তারা চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ইরানের দাবি, যতদিন ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ না করছে, ততদিন তারা কোনো আলোচনার টেবিলে বসবে না।

পরিস্থিতির মূল দিকগুলো:

  • হরমুজে নতুন নীতি: আইআরজিসি (IRGC) ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে এখন থেকে ‘সামুদ্রিক পরিষেবা ফি’ প্রদান করতে হবে। ইরান পারস্য উপসাগরীয় প্রণালী কর্তৃপক্ষ (PGSA) প্রতিষ্ঠা করে এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া: ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন। হরমুজ প্রণালী একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে অবাধ চলাচলের নিয়মে চলে, সেখানে টোল আরোপের বিষয়টিকে মিত্র দেশগুলো বিপজ্জনক নজির বলে মনে করছে।

  • বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব: হরমুজ প্রণালী খোলার পর প্রথম দিনেই ১.২৫ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়েছিল, যা তেলের দাম কমিয়ে এনেছিল। কিন্তু ফের অবরুদ্ধ হওয়ায় তেলের দাম আবারও আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা বিশ্বকে এক গভীর মন্দার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ কী? ইরান ও ওমান সালতানাতের মধ্যে সমন্বয় করে একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ তুলে নিলেও ইরানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে মার্কিন প্রশাসন ও উপসাগরীয় মিত্ররা নতুন করে কূটনৈতিক চাপে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনাও ইরান বাতিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

লেবানন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বাড়তে থাকা এই সংঘাত এখন মধ্যপ্রাচ্যকে এক বারুদভর্তি পাত্রে পরিণত করেছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই অচলাবস্থা আগামী দিনে কী রূপ নেয়, সেটাই এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *