রাম মন্দিরে দান করা হার-পাদুকা গায়েব! রসিদ নেই, রেকর্ডও নেই; অযোধ্যায় তোলপাড়

অযোধ্যা রাম মন্দিরে দান করা পূজার সামগ্রী ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) টানা ছয় দিন ধরে এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং প্রতিদিন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনার সঙ্গে ট্রাস্টি, ব্যাংক কর্মচারী এবং আউটসোর্সিং সংস্থার কর্মীদের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হার ও চরণ পাদুকার রহস্য: সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি এসেছে মহন্ত বিনোদ মিশ্রের দাবি থেকে। তিনি জানিয়েছেন, ৩০ অক্টোবর ২০২৫-এ রাম লালার উদ্দেশ্যে ১.২৫ কেজি ওজনের একটি রূপার হার এবং ৩০০ গ্রাম ওজনের রূপার চরণ পাদুকা উৎসর্গ করেছিলেন। অভিযোগ, এই দামী উপহারগুলো দেওয়ার পর তিনি কোনো রসিদ পাননি। মাসের পর মাস রসিদ ও ছবির জন্য অনুরোধ করলেও তিনু যাদব নামে এক ব্যক্তি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে জানা যায়, সেগুলো নাকি বেঙ্গালুরুতে গলিয়ে ফেলা হয়েছে! অথচ এর কোনো সরকারি রেকর্ড বা রসিদ নেই।
তদন্তের মূল দিকসমূহ:
-
এসআইটির নজরে কারা: তদন্তকারী দল স্টেট ব্যাংকের ছয়জন কর্মচারী, ১২ জন আউটসোর্সড কর্মী এবং ট্রাস্টের একাধিক সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। লখনউতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
-
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ: মন্দিরে নগদ টাকা গণনার জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যারা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশে নিজেদের পরিচিত ও আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়েছিল। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপরও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপ ছিল বলে অভিযোগ, যার ফলে গরমিল ধরা পড়লেও তারা নীরব থেকেছেন।
-
প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা: মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে। মন্দির চত্বরে নিযুক্ত ৮০০ কর্মীর মধ্যে ট্রাস্টের ২০০ জন কর্মীর ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রভাবশালীদের ছায়া: তদন্তে উঠে আসছে যে, মন্দির ট্রাস্টের প্রভাবশালী সদস্যদের প্রভাবেই এই অনিয়মগুলো এতদিন ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ট্রাস্টের অনেক কর্মকর্তার বাড়ি ভাড়া নেওয়া ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও গরমিলের প্রমাণ মিলছে। একজন কর্মকর্তাসহ তিন থেকে চারজনের প্রত্যক্ষ যোগসাজশের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
অযোধ্যার এই পবিত্র তীর্থস্থানে বিশ্বাসের অমর্যাদায় ক্ষুব্ধ দেশবাসী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া প্রাথমিক রিপোর্ট থেকেই এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম সামনে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।