অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা তুলে বিজেপি নেতার সঙ্গে পালালো স্ত্রী, পুলিশের দ্বারস্থ হলেন স্বামী

সরকারি প্রকল্পের টাকা তুলতে গিয়ে কি সত্যিই ঘর ভাঙল এক পরিবারের? ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা তোলার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় ছড়িয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। অভিযোগের তীর স্থানীয় এক বিজেপি নেতার দিকে।
ঘটনার সূত্রপাত: হরেকৃষ্ণ বর্মন নামে এক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবকের অভিযোগ, গত কয়েকদিন আগে তাঁর স্ত্রী ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ৩,০০০ টাকা তোলার নাম করে শীতলকুচি বাজারে যান। এরপর থেকেই তাঁর আর কোনো খোঁজ নেই। হরেকৃষ্ণর দাবি, ঘটনার পর তিনি জানতে পেরেছেন যে, পাশের গ্রামের বিজেপির বুথ সভাপতি নিতাই দাসের সঙ্গেই তাঁর স্ত্রী পালিয়ে গিয়েছেন। এমনকি, যাওয়ার সময় পরিবারের পুরনো সাইকেলটিও ওই বাজারে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।
দীর্ঘদিনের সন্দেহ ও বর্তমান পরিস্থিতি: স্থানীয় সূত্রে খবর, হরেকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে অশান্তির ছায়া ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। ওই বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে হরেকৃষ্ণ বহু আগে থেকেই সন্দেহ করতেন। এমনকি, বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা পাননি তিনি। রাজ্যে নতুন সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ঘোষণা এবং প্রকল্পের টাকা পাওয়ার পর থেকেই এমন ঘটনা ঘটল বলে দাবি স্থানীয়দের।
পুলিশি তৎপরতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর: স্ত্রী এবং নিজের দুই সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য শীতলকুচি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছেন হরেকৃষ্ণ। একদিকে নিজের পরিবার ফিরে পাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাকে জড়িয়ে এমন অভিযোগ—সব মিলিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। তবে এ বিষয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁদের দাবি, এটি একান্তই একটি ‘পারিবারিক বিষয়’, যার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মহিলার সন্ধান চালানো হচ্ছে।