‘আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য কাকুতি-মিনতি করেছিলেন মেলোনি!’ ট্রাম্পের দাবিতে তুঙ্গে বিতর্ক

জি-৭ সম্মেলনের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, সম্মেলনের সময় মেলোনি তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য জোর অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ‘অহংকারী’ মন্তব্যকে প্রকাশ্যে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মেলোনি।
কী বলেছিলেন ট্রাম্প?
একটি টিভি সাক্ষাৎকারে জি-৭ সম্মেলনের একটি ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “মেলোনি আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য খুব আগ্রহী ছিলেন। আমি প্রথমে পাত্তা দিইনি, কিন্তু তাঁর আগ্রহ দেখে আমি কথা বলতে বাধ্য হই। তিনি বারবার আমার সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করছিলেন, অনেকটা কাকুতি-মিনতির মতো। আমি শুধু তাঁর ইচ্ছাপূরণ করেছি।”
মেলোনির কড়া জবাব
ট্রাম্পের এই দাবিকে তীব্র ভাষায় খারিজ করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ইতালি এমন কোনো দেশ নয় যে অন্যের সামনে হাত পাতবে বা গদগদ হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল ভুলই নয়, এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।”
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে, এই ঘটনার প্রতিবাদে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ঘোষণা করেছেন, তিনি তাঁর পূর্বনির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করছেন।
কেন তিক্ত হলো সম্পর্ক?
২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এবং মেলোনির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বেশ মধুরই ছিল। এমনকি ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ইউরোপের একমাত্র নেতা হিসেবে মেলোনিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এই বছরের শুরুতে ইতালিতে আয়োজিত এক গণভোটে মেলোনি বড় ধরনের ধাক্কা খান, যা ট্রাম্পের রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। সেই থেকেই দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক কৌশল। মেলোনিকে ‘ছোট’ করে দেখানোর মাধ্যমে ট্রাম্প কি বিশ্বমঞ্চে নিজের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন? এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।