ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি কি ব্যর্থ? নেতানিয়াহুর পদক্ষেপে নতুন আশঙ্কার মুখে ওয়াশিংটন!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর লেবানন নীতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নবগঠিত শান্তি চুক্তিকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিতে পারে।
শান্তি চুক্তির পথে বাধা কোথায়?
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৪-দফার একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল, যার মূল শর্তই হলো লেবাননে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন। কিন্তু ওয়াশিংটনের সেই কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর এখন কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন নেতানিয়াহু। শুক্রবার হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে যে বিমান হামলা চালিয়েছে, তা সরাসরি শান্তি আলোচনার টেবিলে আঘাত করেছে।
কেন কঠোর নেতানিয়াহু?
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
-
রাজনৈতিক সংকট: নেতানিয়াহু এ বছর বড় ধরনের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এই মুহূর্তে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার বা অভিযান কমানোকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা হতে পারে।
-
জনমতের চাপ: ইসরায়েলের স্থানীয় এক সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ ইহুদি নাগরিক হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও তীব্র করার পক্ষে। উত্তর ইসরায়েলের হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ হিজবুল্লাহর ক্ষমতা নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত শান্ত হতে রাজি নয়।
ওয়াশিংটন বনাম তেল আবিব: মতপার্থক্য তুঙ্গে
ট্রাম্প প্রশাসনের শান্তি চুক্তিতে ইসরায়েল খুব একটা খুশি নয়। তেল আবিবের আশঙ্কা, এই চুক্তি ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে, যা প্রকারান্তরে হিজবুল্লাহকে শক্তিশালী করবে। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, এই চুক্তিতে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার সংরক্ষিত রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন-ইরান আলোচনাও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়েছে। এমনকি শান্তি আলোচনা তদারকিতে থাকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও তাঁর সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বের নজর এখন লেবানন সীমান্তের দিকে। নেতানিয়াহু কি মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন, নাকি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় বৃহত্তর যুদ্ধের পথে হাঁটবেন? সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।