অম্বুবাচী এবার শিলিগুড়িতেই! ফারাবাড়ির কামাখ্যা মন্দিরে সাজো সাজো রব, জানুন নির্ঘণ্ট

অম্বুবাচী মানেই অনেকের কাছে অসমের কামাখ্যা মন্দিরের কথা মনে পড়ে। তবে এবার সেই আধ্যাত্মিক আবহের স্বাদ পেতে আপনাকে আর দূরযাত্রার কথা ভাবতে হবে না। শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে ফারাবাড়ি নেপালি বস্তি এলাকার জঙ্গলঘেরা পরিবেশে অবস্থিত ১০ মহাবিদ্যা কামাখ্যা মন্দিরে আগামী ২২ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে বিশেষ অম্বুবাচী উৎসব। পাহাড়ের কোলে প্রকৃতির সান্নিধ্যে মায়ের আশীর্বাদ নিতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি তুঙ্গে।
মন্দিরের ঐতিহ্য:
প্রায় আড়াইশো বছরের প্রাচীন এই ধর্মীয় স্থানটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। জানা যায়, প্রথমে এখানে গ্রামঠাকুরের আসন ছিল, পরবর্তীতে গণেশ ও শিবমন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। কয়েক বছর আগে এখানে মা কামাখ্যার মন্দির গড়ে ওঠার পর থেকেই অসমের মূল কামাখ্যা ধামের নিয়ম-নীতি মেনে এখানে অম্বুবাচী পালন করা হচ্ছে।
অম্বুবাচীর নির্ঘণ্ট ও উৎসবের সূচি:
মন্দির পরিচালন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলবে পাঁচদিনের এই উৎসব।
২২ জুন: সকাল ৯টায় বিশেষ পুজোর মাধ্যমে উৎসবের সূচনা। সকাল ১১টায় কুমারী পুজো। রাত ৯টায় মন্দিরের দ্বার বন্ধ হবে এবং তান্ত্রিক রীতি অনুসারে অম্বুবাচীর আচার শুরু হবে।
পাঁচদিনের অনুষ্ঠান: পুজো, ভাণ্ডারা, প্রসাদ বিতরণ ও বিশেষ ভোগের পাশাপাশি বাংলা ও নেপালি ভাষায় ভজন-কীর্তন, বাউল গান ও লোকগীতি পরিবেশিত হবে।
২৬ জুন: সকাল ৯টা ২৫ মিনিট নাগাদ পুনরায় মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
মন্দির পরিচালন কমিটির সম্পাদক বিজয় রাই জানান, প্রতিবছরই দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এখানে ভিড় করেন। এবারও সকল ভক্তদের জন্য বিশেষ ভোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেহেতু মন্দিরটি জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এবং মাঝেমধ্যেই বন্য হাতির উপদ্রব দেখা যায়, তাই বনদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির অপূর্ব মেলবন্ধন ও প্রাচীন ঐতিহ্যের টানে এবার শিলিগুড়ির ফারাবাড়ির এই মন্দির প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে উঠবে বলেই আশা করা হচ্ছে।