পার্টি অফিসে বেডরুম! বিতর্কের মুখে কড়া জবাব দেবাংশু ভট্টাচার্যের, কেন থাকে রান্নাঘর-শয্যা?

সাম্প্রতিককালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়গুলোতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অদ্ভুত সব জিনিসপত্র উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়েছে। কোথাও আসবাবপত্র, আবার কোথাও ত্রাণ সামগ্রীর আড়ালে বিতর্কিত বস্তু মেলায় বিরোধী শিবির সরব হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোতে ‘বেডরুম’ থাকার বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই আবহেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে সমালোচনার জবাব দিলেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য।
কেন পার্টি অফিসে বেডরুম? ব্যাখ্যা দেবাংশুর:
দলীয় কার্যালয়গুলোতে বেডরুম ও থাকার ব্যবস্থা থাকা নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেবাংশু। তিনি লেখেন, “কিছু সংবাদমাধ্যমের বন্ধুরা এই বিষয়টি নিয়ে যে ভাষায় সমালোচনা করছেন, তারা হয়তো জানেনই না একটা পার্টি অফিসে কেন বেডরুম থাকে।”
নিজের সাত বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, “দূর-দূরান্ত থেকে আসা কর্মীরা যাতে প্রতিবার হোটেল ভাড়া করে থাকতে না হয়, তার জন্যই বহু জেলা কার্যালয়ে বেডরুম ও স্নানঘরের ব্যবস্থা থাকে। এমনকী অনেক পার্টি অফিসে রান্নাঘরও থাকে, যেখানে আমরা বহুবার রান্না করে খেয়েছি। এটি মূলত কর্মীদের সুবিধার জন্যই করা হয়।”
স্কুল বনাম পার্টি অফিসের পার্থক্য:
তবে দেবাংশু এই বিতর্কে একটি সূক্ষ্ম অথচ গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, “আমার এই ব্যাখ্যা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কার্যালয়গুলোর জন্যই প্রযোজ্য। কিন্তু যদি কোনো স্কুল বা কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেডরুম পাওয়া যায়, তবে তা অবশ্যই উদ্বেগের। যদি সেটি কোনো অসুস্থ ছাত্রছাত্রীর জন্য ‘সিক রুম’ না হয়, তবে সেই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবেই যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
রাজনৈতিক বিতর্ক:
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, সম্প্রতি যে হারে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিতর্কিত সামগ্রী উদ্ধারের খবর সামনে আসছে, তাতে রাজনৈতিক কার্যালয়ের অন্দরমহলের নিরাপত্তা ও ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। দেবাংশুর এই ব্যাখ্যা সেই বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেডরুম থাকার বিষয়টিকে ‘তদন্তযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে তিনি কৌশলগতভাবেই বিষয়টিকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।