বিয়ের পরেও প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক! স্ত্রী ও শাশুড়িকে চরম শিক্ষা দিল আদালত, জরিমানা শুনলে চমকে উঠবেন!

পরকীয়া ও বৈবাহিক প্রতারণার মামলায় এক বেনজির এবং ঐতিহাসিক রায় দিল কেরালার পাথানামথিট্টা পারিবারিক আদালত। বিয়ের পরেও অন্য পুরুষের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক বজায় রেখে স্বামীর জীবন ও সামাজিক সম্মান নষ্ট করার অপরাধে, ওই মহিলার পরিবার ও বন্ধুদের ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারক।
কী ঘটেছিল এই সংসারে?
মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। এর্নাকুলামের মারাডুর এক যুবক আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ আনেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামী জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি এবং গোপনে পরকীয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বিয়ের আগে ওই মহিলা গর্ভপাত করিয়েছিলেন এবং বিয়ের পরেও স্বামীর অজান্তে পুনরায় গর্ভপাত করান বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। স্বামীর দাবি ছিল, এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তাঁর মানসিক ও সামাজিক জীবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
শাশুড়ি, শালক ও বন্ধুর বড় শাস্তি
মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর বিচারক ডনি থমাস ভার্গেস স্পষ্ট জানান, আবেদনকারী যুবকের দাম্পত্য জীবন ধ্বংস করার পেছনে ওই মহিলার পরিবারেরও সরাসরি হাত ছিল। ফলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, ১৫ লক্ষ টাকার এই বিশাল ক্ষতিপূরণের অর্থ ওই মহিলার মা (শাশুড়ি), ভাই (শালক) এবং তাঁর বন্ধুকে যৌথভাবে মেটাতে হবে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালে মামলা দায়েরের দিন থেকে এই অর্থের ওপর বার্ষিক ৬ শতাংশ হারে সুদও দিতে হবে।
স্ত্রীও পাবেন গয়না ফেরত
আইনি ভারসাম্য বজায় রেখে আদালত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্বামীকেও একটি নির্দেশ দিয়েছে। বিয়ের সময় কেনা ৩২ গ্রাম সোনা স্ত্রীকে ফেরত দিতে হবে স্বামীকে। যদি কোনো কারণে সেই সোনা ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ৬ শতাংশ সুদসহ সমপরিমাণ টাকা স্ত্রীকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন পথ
সুপ্রিম কোর্টের একটি বিশেষ আইনি নজিরকে ভিত্তি করেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পারিবারিক আদালত। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির কারণে যদি গুরুতর বিবাদ বা প্রতারণা ঘটে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। আদালতে স্বামীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী লিসি টি. স্কারিয়া এবং সন্তোষ জোস প্রসাদ। সাংবাদিক মহলের মতে, এই রায় আগামী দিনে পরকীয়া এবং পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মামলায় এক বড় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।