২০২৭ সালের মধ্যে ৩.৫ কোটি নতুন কর্মসংস্থান! বড় লক্ষ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’

অর্থনীতিবিদ স্যর আর্থার লুইসের সেই বিখ্যাত ‘কৃষি থেকে শিল্পে উত্তরণ’-এর তত্ত্বই এখন ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি। চলতি দশকে প্রতি বছর ৭৮.৫ লক্ষ অ-কৃষি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে ভারত এখন এক বড় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই কর্মসংস্থানের ঘাটতি পূরণেই কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ে এসেছে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য: সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণ কর্মীদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত দু’বছরের এই পরিকল্পনায় ইপিএফও (EPFO)-এর মাধ্যমে মোট ৯৯,৪৪৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। লক্ষ্য—দেশজুড়ে ৩.৫ কোটিরও বেশি নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা।
কী কী সুবিধা মিলবে?
-
প্রথমবার নথিভুক্তিকরণ: যাঁরা নতুন করে সংগঠিত ক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন এবং যাদের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন।
-
আর্থিক সুবিধা: প্রথমবার ইপিএফও-তে নথিভুক্ত হওয়া কর্মীরা ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।
-
সুরক্ষা: এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধু কাজ দেওয়া নয়, বরং তরুণ কর্মীদের একটি সুনিশ্চিত উৎপাদন ব্যবস্থার নিরাপত্তা দেওয়া।
কেন এই উদ্যোগ? ইকোনমিক সার্ভে ২০২৩-২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিশাল জনবিন্যাসের জন্য প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজন। এতদিন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ছিল ভারতের চালিকাশক্তি, কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করার কোনো বিকল্প নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই সুচিন্তিত উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লুইসের সেই তত্ত্বকে বাস্তবায়িত করার মাধ্যমেই ভারত তার বিপুল কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মকে অর্থনীতির মূল স্রোতে সামিল করতে পারে। সংগঠিত ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ শুধুমাত্র বেকারত্ব দূর করবে না, বরং দেশের মোট উৎপাদনশীলতা বাড়াতেও বড় ভূমিকা রাখবে।