“২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায়”-বাংলায় খুলবে আরও ৪৬৯টি জনৌষধি কেন্দ্র

সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি যোজনা’ (PMBJP)-কে আরও প্রসারিত করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ১২ বছরে ভারতের ওষুধশিল্পে এই উদ্যোগ এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে সারা দেশে যেখানে মাত্র ৮৪টি কেন্দ্র ছিল, ২০২৬ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা ১৯,২০০ ছাড়িয়ে গেছে।

সাশ্রয়ের নজির: এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই দেশের নাগরিকরা স্বাস্থ্যখাতে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় করেছেন।

বাংলায় নতুন দিগন্ত: পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে আরও ৪৬৯টি নতুন জনৌষধি কেন্দ্র চালুর ঘোষণা করেছেন। এই কেন্দ্রগুলো ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিপিএইচসি (BPHC), মহকুমা হাসপাতাল এবং জেলা হাসপাতালগুলোতে তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কোনো পরিবারের মাসিক ওষুধের খরচ যদি ২,০০০ টাকা হয়, এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে তা ২০০ টাকায় নেমে আসতে পারে।” অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন। এছাড়াও ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধে ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের বিশেষত্ব ও সুযোগ:

  • লক্ষ্য: ২০২৭ সালের মধ্যে সারা দেশে জনৌষধি কেন্দ্রের সংখ্যা ২৫,০০০-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কেন্দ্র।

  • ইনসেনটিভ: জনৌষধি কেন্দ্র খোলার ক্ষেত্রে মহিলা, তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত উদ্যোক্তাদের জন্য ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ দিচ্ছে সরকার।

  • সস্তায় সামগ্রী: জনৌষধি কেন্দ্রে মাত্র ১ টাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়া যাচ্ছে, যা নারী স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ।

দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এই প্রকল্পের সুফল পৌঁছে গেছে। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে যেখানে ২০১৪ সালে মাত্র ১টি কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭-তে। উত্তরপ্রদেশ ৪,০৪২টি কেন্দ্র নিয়ে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গেও দ্রুত বাড়ছে এই কেন্দ্রের সংখ্যা। নিয়মিত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন করেন, এমন লক্ষ লক্ষ নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই জনৌষধি কেন্দ্রগুলো এখন এক নির্ভরযোগ্য ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *