‘মোটেও সহজ ছিল না…’, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরে যা বললেন ট্রাম্প

অবশেষে দীর্ঘ ১০৭ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার ইতি টানল আমেরিকা ও ইরান। জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলনের আবহে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে এক ঐতিহাসিক সমঝোতাপত্রে সই করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নামে পরিচিত এই ১৪ দফা চুক্তিকে বিশ্বশান্তির পথে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
চুক্তির নেপথ্যে ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ান: ভার্সাই প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে ডিনারের ফাঁকে সই হওয়া এই চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, “এটি সহজ ছিল না, তবে যুদ্ধ থামানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।” তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, শর্ত ভঙ্গ করলে আমেরিকা ফের কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও নিজ দেশে সই করা চুক্তির ছবি সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক পদক্ষেপের বার্তা দিয়েছেন।
১৪ দফা চুক্তির মূল দিকগুলি: প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তিতে যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
-
সামরিক উত্তেজনা হ্রাস: লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
-
হরমুজ প্রণালীর মুক্তি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ইরান।
-
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরত এবং তেল রপ্তানিতে আংশিক ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি মার্কিন-সমর্থিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
-
পরমাণু কর্মসূচি: ইরান নিশ্চিত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।
আগামী ৬০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: এই চুক্তিটি চূড়ান্ত কোনো শান্তিচুক্তি নয়, বরং একটি ‘রাজনৈতিক কাঠামো’। আগামী ৬০ দিন দুই দেশ এই চুক্তির শর্তাবলী মেনে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে এগিয়ে যাবে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিরূপ পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে এই চুক্তি অত্যন্ত জরুরি ছিল। গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছিল। ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের জিও-পলিটিক্সে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ কতটা আস্থার সঙ্গে এই সমঝোতা ধরে রাখতে পারে।