ল্যাপটপ পরিষ্কার করতে গিয়ে এই ভুলটি করছেন না তো? অজান্তেই কমে যাচ্ছে আপনার দামি ডিভাইসের আয়ু!

বর্তমান যুগে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী। অফিস মিটিং, অনলাইন ক্লাস কিংবা দেশ-বিদেশের খবরাখবর রাখা—সবকিছুই সামলানো হচ্ছে এই এক যন্ত্রে। কিন্তু সাধের এই ডিভাইসটির সঠিক যত্ন নিচ্ছেন তো?

নিয়মিত পরিষ্কার না করলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যায়। তাই এর আয়ু বাড়াতে কিবোর্ড, মাউস, মাদারবোর্ড ও হার্ডডিস্কসহ প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। তবে পরিষ্কার করার সময় অনেকেই কিছু মারাত্মক ভুল করে বসেন, যা ডিভাইসকে চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে। ডেইলিহান্টের পাঠকদের জন্য রইল পিসি ও ল্যাপটপ পরিষ্কার করার সঠিক ও নিরাপদ পদ্ধতি:

প্রাথমিক সতর্কতা ও তরল ব্যবহারের নিয়ম
কানেকশন বন্ধ করুন: পরিষ্কার করার আগে ল্যাপটপ বা পিসির সমস্ত পাওয়ার কানেকশন এবং প্লাগ অবশ্যই বন্ধ করে দিন।

সরাসরি স্প্রে নয়: কম্পিউটারের কোনো অংশে সরাসরি লিকুইড বা স্প্রে ঢালবেন না। প্রথমে একটি নরম সুতি বা কটন কাপড়ে লিকুইডটি মেখে নিয়ে, তারপর সেটি দিয়ে ডিভাইস মুছুন।

প্লাগ ও নবের খেয়াল: বিশেষ করে সিপিইউ-এর পেছনের অংশ পরিষ্কার করার সময় সাবধান থাকুন, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্লাগ বা তার ছুটে না যায়।

খাবার থেকে দূরে: কম্পিউটারের সামনে বসে খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। ডিভাইসের কাছাকাছি ধূমপান একেবারেই করবেন না, কারণ সিগারেটের ছাই ভেতরের যন্ত্রাংশের মারাত্মক ক্ষতি করে।

নিয়মিত রুটিন: অন্তত মাসে একবার, না পারলে প্রতি ৫ মাস অন্তর কম্পিউটার গভীরভাবে পরিষ্কার করুন।

কুলিং ফ্যান ও ভ্যাকুয়াম ব্যবহারের সঠিক কৌশল
ফ্যান আটকে রাখুন: ফ্যান পরিষ্কার করার সময় সেটি হাত বা অন্য কিছু দিয়ে চেপে ধরে রাখুন যাতে ঘুরে না যায়। ভ্যাকুয়াম বা কম্প্রেসড এয়ার ব্যবহারের সময় ফ্যান ঘুরলে তার কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।

ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের ধরণ: ধুলা-ময়লা পরিষ্কারের জন্য কেবল ব্যাটারিচালিত পোর্টেবল ভ্যাকুয়াম ব্যবহার করুন। সরাসরি এসি প্লাগে চলা বড় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার প্রচুর স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি তৈরি করে, যা মাদারবোর্ড পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

কম্প্রেসড এয়ার: পোর্টেবল ভ্যাকুয়ামের বিকল্প হিসেবে কম্প্রেসড এয়ার স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন, যা মাদারবোর্ডের সূক্ষ্ম অংশ পরিষ্কারে দারুণ কার্যকরী।

সিপিইউ কেইস, কিবোর্ড ও মাউসের যত্ন
ভেন্টিলেশন স্লট: সিপিইউ কেইসের ভেন্টিলেশন স্লট বা বাতাস চলাচলের পথগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার রাখুন। এতে ভেতরের যন্ত্রপাতি ঠাণ্ডা থাকবে। পুরো কেইসটি পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

কিবোর্ড ও মাউস: কিবোর্ডটি প্রথমে উল্টে নিয়ে হালকা ঝেড়ে নিন, যেন ভেতরের ময়লা বেরিয়ে আসে। এরপর ভ্যাকুয়াম দিয়ে পরিষ্কার করুন। মাউসটি প্রতিদিন হালকা মুছে নিলে তা দীর্ঘদিন নতুনের মতো দেখাবে।

মনিটরের স্ক্রিন পরিষ্কারের বিশেষ নিয়ম
মাইক্রোফাইবার কাপড়: মনিটরের স্ক্রিন পরিষ্কার করতে সাধারণ কাপড় বা টিস্যু ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে থাকা ধূলিকণা স্ক্রিনে স্ক্র্যাচ বা দাগ ফেলে দেয়। সবসময় মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন।

উভয় পিঠের ব্যবহার: কাপড়ের একদিক দিয়ে পুরো স্ক্রিনটি মোছার পর, কাপড়টি উল্টে নিয়ে বিপরীত দিক দিয়ে আরেকবার মুছুন।

একমুখী মোছা: এলোমেলো বা গোল করে স্ক্রিন মুছবেন না। প্রথমে ওপর-নিচ (ভার্টিক্যাল) এবং পরে ডানে-বামে (হরিজনটাল) একমুখীভাবে স্ক্রিন পরিষ্কার করুন।

হেডফোনের যত্ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
দীর্ঘদিন হেডফোন বা ইয়ারফোন পরিষ্কার না করে ব্যবহার করলে তাতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা কানের ইনফেকশনের কারণ হতে পারে। ইয়ারফোনের ইয়ারপ্যাডগুলো খুলে হালকা গরম জলে ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। হেডফোনের বাকি অংশটি গরম জলে ভেজানো সুতি কাপড় নিংড়ে নিয়ে ভালো করে মুছে পরিষ্কার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *