‘কনসেন্ট’-কে পণ্যের স্তরে নামানোই কাল! কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে শোকজ ও মামলা, প্রশ্নের মুখে বিনোদন জগৎ

স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-এর ‘ক্রাউড-ওয়ার্ক’ করতে গিয়ে বিপত্তি। গুরুগ্রামে আয়োজিত একটি শো-তে এক দর্শকের আপত্তিকর মন্তব্য এবং তা নিয়ে কমেডিয়ান প্রণীত মোরের (Praneet More) প্রতিক্রিয়া—এই পুরো বিষয়টি বর্তমানে দেশজুড়ে এক বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রসিকতার সীমা এবং নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই বিতর্ক এখন আইনি লড়াইয়ে মোড় নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:
ভাইরাল ক্লিপে দেখা যায়, হিমাংশু জাঙ্গরা নামক এক দর্শক দাবি করছেন, একটি ডেটে গিয়ে তিনি ৩৭০ টাকা খরচ করে চিকেন বিরিয়ানি খাইয়েছেন, তাই ওই মহিলার কাছ থেকে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা তাঁর প্রাপ্য। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কমেডিয়ান প্রণীত মোরে তা থামানোর বদলে হেসে উড়িয়ে দেন এবং দর্শকরাও হাততালি দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র নিন্দার ঝড়।

কার কী পদক্ষেপ?

কমেডিয়ানের ক্ষমা প্রার্থনা: চাপের মুখে প্রণীত মোরে এবং হিমাংশু জাঙ্গরা ক্ষমা চেয়ে ভিডিও পোস্ট করেন। প্রণীত তাঁর ভুল স্বীকার করে ভিডিওটি মুছে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেন।

চাকরি থেকে বরখাস্ত: হিমাংশুর মন্তব্য কোম্পানির আদর্শের পরিপন্থী জানিয়ে, তাঁর নিয়োগকর্তা সংস্থা ‘স্টারভিক ডিজাইন’ তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে।

চিকিৎসকের মন্তব্য বিতর্ক: এরই মধ্যে ডঃ সেজল পাওয়ার নামে এক দর্শককেও একই শো-এ অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করতে শোনা যায়। তিনিও পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে নেন।

আইনি ব্যবস্থা ও এনসিডব্লিউ (NCW): জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) বিষয়টিকে যৌন হয়রানি ও সম্মতিহীন সম্পর্ককে ‘উদযাপন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকর হরিয়ানার ডিজিপি-কে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশি মামলা: মুম্বাইয়ের নোডাল সাইবার থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর অধীনে প্রণীত মোরে, হিমাংশু জাঙ্গরা ও ডঃ সেজল পাওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

কেন এই বিতর্ক এত গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাথমিক ক্ষোভ এখন বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—‘কমেডি’-র নামে কি যে কোনো অশ্লীলতা বা নারীবিদ্বেষ বৈধ? ৩৭০ টাকার বিরিয়ানির বিনিময়ে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার দাবি তুলে যেভাবে নারীর ‘কনসেন্ট’ বা সম্মতিকে সস্তা পণ্যের স্তরে নামিয়ে আনা হয়েছে, তা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিকরা উদ্বিগ্ন। বিনোদন জগতের দায়িত্ববোধ এবং দর্শকদের সহনশীলতার সীমা নিয়ে এই ঘটনা এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।

এর আগে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান সময় রায়নাও একই ধরণের বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক্রোফোন হাতে থাকলে কি সব সীমা অতিক্রম করা যায়? আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি এই ঘটনাটি বিনোদন জগতে নারী মর্যাদা ও লিঙ্গসাম্য নিয়ে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করল।