তপ্ত উত্তরপ্রদেশে কালবৈশাখীর তাণ্ডব! এক বাড়িতে ৩ মৃত্যু, দিল্লিগামী ৮ বিমান ঘুরিয়ে লখনউয়ে!

তীব্র দাবদাহের পর উত্তরপ্রদেশে স্বস্তির বৃষ্টির সাথে নেমে এল দুর্যোগের কালো মেঘ। শনিবার সকাল থেকেই লখনউ সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মুষলধারে বৃষ্টি এবং প্রবল ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে। একধারে যেমন তীব্র গরম থেকে রেহাই পেয়েছে জনজীবন, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
মর্মান্তিক মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতি
আবহাওয়ার এই হঠাৎ পরিবর্তনের কবলে পড়ে গতকাল রাতে কাসগঞ্জের সিধপুরা থানার শেখুপুরা গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঝড়-বৃষ্টির জেরে একটি বাড়ির দেয়াল ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও তিন শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত
খারাপ আবহাওয়ার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। দৃশ্যমানতা কম থাকায় এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে দিল্লিগামী আটটি ফ্লাইটকে লখনউ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। এর মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট এবং এয়ার আস্তানার মতো বড় এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো ছিল। আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বিমানগুলোকে পুনরায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা করানো হয়।
৫৪ জেলায় হাই অ্যালার্ট
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিন রাজ্যের ৫৪টি জেলায় ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ২২টি শহরে বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। লখনউ সহ সংলগ্ন এলাকায় আগামী তিন ঘণ্টা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, একটি নতুন পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবেই রাজ্যে প্রাক-বর্ষার এই বৃষ্টি। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত এই আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ
ঝড়-বৃষ্টিতে প্রাণহানি, গবাদি পশুর মৃত্যু এবং ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমীক্ষা শেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জনসাধারণের প্রতি প্রশাসনের পরামর্শ:
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে আশ্রয় নেবেন না।
খোলা জায়গা এড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকুন।
রাস্তায় জমে থাকা জল এড়িয়ে সতর্কতার সাথে চলাচল করুন।
উল্লেখ্য, লখনউ, কানপুর, সীতাপুর, হারদোই, শাহজাহানপুর, হাথরাস ও উন্নাওসহ বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার ফলে নিচু এলাকাগুলোতে জল জমে জনজীবন কিছুটা বিপর্যস্ত হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।