তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল! এনডিএ-র পথে সাংসদদের একাংশ? সামনে এল বিস্ফোরক নথি

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন এখন যেন তাসের ঘর। রাজ্য রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এবার জাতীয় রাজনীতির আঙিনাতেও বড়সড় ধাক্কা দিল। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের মোট ১৯ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে নিজেদের ‘পৃথক সংসদীয় ব্লক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
নথিতে কাদের নাম?
প্রকাশ্যে আসা নথি অনুযায়ী, এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর নামের পাশে ‘চিফ হুইপ’ উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় (‘ডেপুটি লিডার’)।
তালিকার উল্লেখযোগ্য মুখ:
বিদ্রোহী সাংসদদের এই তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে যা তৃণমূলের অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। উল্লেখযোগ্য নামগুলির মধ্যে রয়েছে:
সায়নী ঘোষ ও মালা রায়: সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কমিটিতে সায়নীকে যুব তৃণমূল এবং মালা রায়কে মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পরেও তাঁদের নাম বিদ্রোহী তালিকায় থাকা তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেব ও জুন মালিয়া: ঘাটালের সাংসদ দেব এবং মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়ার মতো জনপ্রিয় তারকা সাংসদদের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
অন্যান্য: এই তালিকায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ ভৌমিক, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, জগদীশ বর্মা বশুনিয়া, অরূপ চক্রবর্তীর মতো ওজনদার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্বাক্ষরও দেখা গিয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ কী বলছে?
বিদ্রোহী শিবিরের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এরা এনডিএ (NDA) জোটকে সমর্থন করার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও এই আবেদনপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের সচিবালয়ে গৃহীত হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে, ১৯ জন সাংসদের এই স্বাক্ষরযুক্ত নথির খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের অন্দরের সংকট যে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট।
কেন এই বিদ্রোহ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। ৫ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিটি ঘোষণা করলেও, তা সর্বজনগ্রাহ্য হয়নি। সাংসদদের এই ‘পৃথক ব্লক’ তৈরির দাবি মূলত শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে এক বড়সড় ‘অগ্নিপরীক্ষা’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এখন প্রশ্ন একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন, নাকি তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় শক্তির ভাঙন এখন সময়ের অপেক্ষা?