আইপিও বাজারে বড় চমক! সেবি-র সবুজ সংকেত পেল ও-ওয়াই-ও (OYO) সহ ৫টি বড় কোম্পানি

দীর্ঘ স্থবিরতার পর ভারতীয় শেয়ার বাজারে ফের আশার আলো। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI) পাঁচটি নামী সংস্থাকে তাদের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) বাজারে আনার অনুমোদন দিয়েছে। আতিথেয়তা, রিয়েল এস্টেট থেকে শুরু করে কৃষি-প্রযুক্তি—বিভিন্ন খাতের এই সংস্থাগুলোর বাজারে প্রবেশ বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যময় করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
বাজারে আসছে যে ৫টি সংস্থা:
১. ওরাভেল স্টেয়স (OYO): দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ও-ওয়াই-ও (OYO)-এর তালিকাভুক্তির পথ পরিষ্কার হয়েছে। আতিথেয়তা ও হোটেল বুকিং পরিষেবার জগতে নিজেদের বিশেষ স্থান তৈরি করা এই সংস্থাটির আইপিও নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ রয়েছে।
২. ট্রুহোম ফাইন্যান্স: সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন অর্থায়নকারী এই সংস্থাটি ৩,০০০ কোটি টাকার আইপিও আনতে চলেছে। এর মধ্যে ১,৫০০ কোটি টাকার নতুন শেয়ার ইস্যু করা হবে এবং বাকিটা ওএফএস (OFS)-এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।
৩. অ্যাডভান্টা এন্টারপ্রাইজেস: কৃষি-প্রযুক্তি খাতের এই সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে হাইব্রিড বীজ ও ফসল-পরবর্তী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। এদের আইপিও-টি সম্পূর্ণরূপে ‘অফার ফর সেল’ (OFS) হতে চলেছে।
৪. ভিগাল্যান্ড ডেভেলপারস: কেরালা-ভিত্তিক এই রিয়েল এস্টেট কোম্পানিটি ২৫০ কোটি টাকার আইপিও আনতে চলেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আইপিওতে কোনো ওএফএস থাকছে না, অর্থাৎ সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থ আবাসিক প্রকল্প ও জমি অধিগ্রহণে সরাসরি বিনিয়োগ করা হবে।
৫. মেহতা হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ: আহমেদাবাদ-ভিত্তিক এই সংস্থাটি মূলত ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন নিয়ে কাজ করে। লেজার সিস্টেম এবং ডিজিটাল প্রিন্টিং সরঞ্জামের বাজারে ব্যবসা প্রসারের উদ্দেশ্যেই তারা বাজারে আসছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
সেবির এই অনুমোদন ভারতীয় বাজারের সামগ্রিক সক্রিয়তাকেই নির্দেশ করছে। বিশেষ করে ভিগাল্যান্ড ডেভেলপারসের মতো কোম্পানি, যারা ওএফএস ছাড়া সরাসরি ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে, তা বাজারের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, ও-ওয়াই-ও (OYO)-এর মতো স্টার্টআপের শেয়ার বাজারে প্রবেশ খুচরো বিনিয়োগকারীদের কাছে নতুন গন্তব্য হতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাঁচটি সংস্থার আইপিও বাজারে এলে তা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। তবে যেকোনো আইপিও-তে আবেদনের আগে সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ পর্যালোচনার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।