রথের আগে হয় জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা, জেনেনিন শুভ তিথি এবার কবে পড়েছে?

ভারতবর্ষ উৎসবের দেশ, আর রথযাত্রা সেই উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। তবে রথযাত্রার মূল আকর্ষণের ঠিক আগেই উদযাপিত হয় জগন্নাথদেবের আর এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব—’স্নানযাত্রা’। পুরাণের কাহিনি অনুসারে, এদিনটি জগন্নাথদেবের শুভ জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়। কথিত আছে, স্নানযাত্রার পর প্রভু জগন্নাথের জ্বর আসে, আর সেই কারণেই তিনি ১৫ দিনের জন্য অসুস্থ হয়ে নিভৃতে থাকেন।

স্নানযাত্রা ও রথযাত্রার দিনক্ষণ (২০২৬)

  • স্নানযাত্রা: ২৯ জুন (১৪ আষাঢ়), সোমবার। (পূর্ণিমা তিথি: ২৮ জুন রাত ২:৪৬ মিনিট থেকে ২৯ জুন রাত ৪:৪৬ মিনিট পর্যন্ত)

  • রথযাত্রা: ১৬ জুলাই (৩১ আষাঢ়), বৃহস্পতিবার। (দ্বিতীয়া তিথি: ১৫ জুন বেলা ১:৪৬ থেকে ১৬ জুন সকাল ১১:৪৪ পর্যন্ত)

  • উল্টো রথযাত্রা (পুনর্যাত্রা): ২৪ জুলাই (৭ শ্রাবণ), শুক্রবার।

স্নানযাত্রার দিনে কী করবেন? (বিশেষ টিপস)

জ্যোতিষশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় মতে, এই দিনটি অত্যন্ত শুভ। ভক্তিভরে কিছু নিয়ম মেনে পুজো করলে সারা বছর ব্যবসা, চাকরি ও পারিবারিক জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে:

১. পবিত্র স্নান: এদিন ভোরে স্নান সেরে নতুন বস্ত্র পরিধান করুন। ২. অভিষেক: গঙ্গাজল, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূর মিশ্রিত জল দিয়ে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে নিষ্ঠাভরে স্নান করান। ৩. অঞ্জলি: স্নানের পর জগন্নাথদেবের চরণে ১০৮টি তুলসী পাতা অর্পণ করুন। ৪. সাজসজ্জা ও প্রসাদ: মূর্তির সামনে গোলাপ ফুল দিয়ে সাজিয়ে ৫ রকমের ফল নিবেদন করুন। ৫. দান ও ভোজন: এদিন অন্তত একজন ব্রাহ্মণকে ভোজন করানো অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

পুরী থেকে শুরু করে মাহেশ, ইস্কন বা আপনার বাড়ির অন্দরমহল—সব জায়গাতেই এই স্নানযাত্রার মাহাত্ম্য অপরিসীম। ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই নিয়মগুলি পালন করলে জীবনের সমস্ত বাধা কেটে গিয়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি লাভ হবে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।