তৃণমূলে ফের ভাঙনের সুর? শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে রথীন ঘোষের গোপন বৈঠকে তুঙ্গে জল্পনা

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা ও ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে, তা যেন পিছু ছাড়ছে না শাসক শিবিরের। সম্প্রতি মধ্যগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে দলবদলের জল্পনা।
হোটেল বৈঠক ও রহস্য
সূত্রের খবর, কলকাতা বিমানবন্দরের নিকটবর্তী একটি হোটেলে শুভেন্দু অধিকারী ও রথীন ঘোষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে দু’পক্ষের কেউই মুখ না খুললেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়া এবং নেতৃত্বের ওপর একাংশের অসন্তোষের এই আবহে এই সাক্ষাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রশাসনিক বৈঠক নাকি রাজনৈতিক সখ্যতা?
রথীন ঘোষের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই সাক্ষাৎ প্রথমবার নয়। এর আগেও জুন মাসের শুরুতে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক বৈঠকে রথীন ঘোষকে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বিধায়ক দাবি করেছিলেন যে, শুধুমাত্র নিজের বিধানসভা এলাকার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের জন্যই তিনি প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ রাখছেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিধায়কদের বারবার মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে হাজির হওয়াকে কেবল ‘উন্নয়নমূলক কাজ’ বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
তৃণমূলের সংকট ও জল্পনা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিধায়ক ও সাংসদদের মধ্যে দলবদলের প্রবণতা তৃণমূলের অস্তিত্বের ওপর বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি করেছে। রথীন ঘোষের মতো হেভিওয়েট বিধায়কের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই গোপন বৈঠক কি তৃণমূলের অন্দরে আসন্ন কোনো বড় ভাঙনের পূর্বাভাস? নাকি এটি শুধুই এলাকায় তহবিল বা প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করার কৌশল?—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলো যে ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।