উৎপাদনে দেরি, শাস্তির মুখে HAL! তেজস যুদ্ধবিমান নিয়ে কড়া অবস্থানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘তেজস’ (Tejas) যুদ্ধবিমানের উৎপাদনে বারবার বিলম্বের জেরে এবার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর বিরুদ্ধে জরিমানার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) হাতে একটিও ‘তেজস এমকে-১এ’ (Tejas Mk-1A) বিমান তুলে দিতে পারেনি HAL, যা সরকারি মহলে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
জরিমানার পথে মন্ত্রণালয়
২০২১ সালে স্বাক্ষরিত প্রায় ৪৮,০০০ কোটি টাকার চুক্তিতে ৮৩টি তেজস এমকে-১এ সরবরাহের কথা ছিল। পরবর্তীতে আরও ৯৭টি বিমানের অর্ডার যোগ হওয়ায় মোট অর্ডারের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮০টিতে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের গোড়ার দিকেই প্রথম বিমান ডেলিভারি হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত সেই সংখ্যা শূন্য। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চুক্তির শর্তানুযায়ী ‘লিকুইডেটেড ড্যামেজেস’ (LD) বা জরিমানা আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
অজুহাত বনাম বাস্তবতা
HAL-এর পক্ষ থেকে বিলম্বের মূল কারণ হিসেবে মার্কিন সংস্থা ‘জিই অ্যারোস্পেস’ (GE Aerospace) থেকে এফ৪০৪-আইএন২০ ইঞ্জিনের সরবরাহ পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের দাবি, এয়ারফ্রেম তৈরি থাকলেও ইঞ্জিনের অভাবেই বিমানগুলো হ্যাঙ্গারে আটকে আছে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, কেবল সাপ্লাই চেইনের দোহাই দিয়ে দায় এড়ানো সম্ভব নয়। উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তিগত সার্টিফিকেশন এবং ইন্টিগ্রেশনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আরও গতি ও স্বচ্ছতা আনা জরুরি বলে মনে করছে সরকার।
বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিলম্ব ভারতের প্রতিরক্ষা লক্ষ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যা কমে যাওয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাফালের মতো বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল হওয়া ভারতের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
আগামীর পরিকল্পনা
সব বাধা কাটিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৮ থেকে ২৪টি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। বারবার সময়সীমা মিস করায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে HAL-কে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের এই महत्वाकांক্ষী প্রকল্পকে সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনতে এখন দ্রুত গতিতে কাজের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।