নিতিন নবীনের গড় ধূলিসাৎ! পদ্মশিবিরের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আর কোন কোন ভুলে হারাল বাঁকিপুর?

বিহারের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিজেপির নিরঙ্কুশ দখলে থাকা বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। বিজেপির জাতীয় সভাপতি তথা তৎকালীন বিধায়ক নিতিন নবীনের ছেড়ে যাওয়া এই শক্ত ঘাঁটিতে খোদ বিজেপি, মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ও একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যাপক প্রচার সত্ত্বেও পদ্মশিবিরকে হার মানতে হয়েছে।
প্রথমবার কোনো নির্বাচনে লড়েই পিকের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কোন কোন কারণ কাজ করেছে, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক:
প্রশান্ত কিশোরের জয়ের ১০টি প্রধান কারণ:
১. পিকের নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা: নির্বাচনী কৌশল থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোরের জোরালো ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সংযোগ ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ২. শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ইস্যু: পিকে তাঁর প্রচারের শুরু থেকেই গতানুগতিক জাতিগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে মূলত শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বিহারের সার্বিক উন্নয়নকে প্রধান ইস্যু করেছিলেন, যা তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। ৩. বিজেপির অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস: দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই আসনটি বিজেপির সুরক্ষিত ঘাঁটি হওয়ায় দলটির অন্দরে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও অলসতা তৈরি হয়েছিল, যা তাদের পতনের অন্যতম বড় কারণ। ৪. NEET ও ইউজিসি (UGC) অসন্তোষ: সাম্প্রতিককালে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ইউজিসি সংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চবর্ণের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছিল ব্যালট বাক্সে। ৫. ভারত তিওয়ারি এনকাউন্টার কাণ্ড: আলোচিত ভারত তিওয়ারি এনকাউন্টার মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল, তা ভোটারদের একাংশকে বিজেপির থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ৬. মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে জনরোষ: সাম্প্রতিক সময়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর কার্যপদ্ধতি ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া অসন্তোষকে নিজের পক্ষে সফলভাবে ব্যবহার করেন প্রশান্ত কিশোর। ৭. ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্কে ফাটল: বিজেপির দীর্ঘদিনের অনুগত শহুরে ভোটারদের মধ্যেও স্থানীয় ক্ষোভ এবং পরিবর্তনের হাওয়া কাজ করেছিল, যার ফলে ঐতিহ্যগত ভোটে ধস নামে। ৮. বিরোধী ভোটের মেরুকরণ: এই উপনির্বাচনে কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) সেভাবে ময়দানে প্রভাব ফেলতে পারেনি এবং তেজস্বী যাদব শেষ মুহূর্তে প্রচারে নামেন। এর ফলে বিরোধীদের বড় অংশের ভোট এবং সমীকরণ সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের বাক্সে চলে যায়। ৯. সংখ্যালঘু ও যাদব ভোটের বিভাজন: বাঁকিপুরে ঐতিহ্যগত সমীকরণ ভেঙে মুসলিম ও যাদব ভোটারদের ভোটও বিভিন্ন দিকে বিভক্ত হয়, যার চূড়ান্ত ফায়দা তোলেন পিকে। ১০. সুনির্দিষ্ট বিকল্প তুলে ধরা: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শূন্যতা এবং প্রচলিত দলগুলির ওপর মানুষের যখন চরম অনাস্থা তৈরি হয়েছিল, ঠিক সেই সময় ‘জন সুরাজ’-এর ব্যানারে একটি সুশৃঙ্খল ও নতুন বিকল্প মানুষের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হন প্রশান্ত কিশোর।