ট্রাম্পকে পিছু হটার পরামর্শ যুবরাজের! মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় কেন বুক কাঁপছে রিয়াদের?

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক হামলা না চালানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস)। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিয়াদের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ট্রাম্পকে কেন এই পিছু হটার পরামর্শ দিল সৌদি আরব? এর নেপথ্যে রয়েছে বেশ কিছু কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কারণ।

১. ‘ভিশন ২০৩০’ এবং অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের সংকট

সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো তাদের উচ্চাভিলাষী জাতীয় প্রকল্প ‘ভিশন ২০৩০’। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনীতিকে কেবল তেলের ওপর একক নির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, পর্যটন, লজিস্টিকস এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এক বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করা। উপসাগরীয় অঞ্চলে যদি নতুন করে কোনো বড় ধরনের যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু হয়, তবে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ আসা বন্ধ হয়ে যাবে, পর্যটন শিল্প ধ্বংস হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

২. তেল সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা

ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার গুঞ্জনের জেরে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর সুরক্ষা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ধস নামবে। অতীতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে সৌদি আরব ভালোভাবেই বুঝেছে যে, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান করা যায় না। আরেকটি সর্বগ্রাসী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তা রিয়াদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।

৩. ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

তেহরান ইতিমধ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে তা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলির জ্বালানি প্রকল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকেও নিশানা করবে। মার্কিন মিত্র হওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব এখন আর কোনো সামরিক সংঘাত চায় না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান চাইছে।

একই সঙ্গে কাতারসহ অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের জিগির তুলে মধ্যপ্রাচ্যকে ফের বড়সড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে ঠেলে না দিয়ে সংযত হওয়ার জন্যই ট্রাম্পকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সৌদি আরব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *