সোনা কি এখন বিক্রি করবেন? দাম বাড়লেই পকেটে লাভ, জানুন বিক্রির সেরা সময়

বিনিয়োগের বাজারে সোনা সবসময়ই ভারতীয়দের কাছে ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গণ্য হয়। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির বাজারে সোনা অনেকেরই আস্থার জায়গা। তবে শুধু সোনা কিনে রাখলেই হবে না, বিনিয়োগ থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা তুলতে হলে তা সঠিক সময়ে বিক্রি করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগের পোর্টফোলিও অনুযায়ী সোনা বিক্রির কিছু নির্দিষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

কখন সোনা বিক্রি করা বুদ্ধিমানের কাজ?

১. পোর্টফোলিও রি-ব্যালেন্সিং (Portfolio Rebalancing): আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে সোনার একটি নির্দিষ্ট অনুপাত থাকা উচিত। কিন্তু বাজারে যখন সোনার দাম হু হু করে বাড়ে, তখন পোর্টফোলিওতে সোনার অংশ বেড়ে যেতে পারে। এতে ঝুঁকির সম্ভাবনা বাড়ে। তাই সোনার অনুপাত প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গেলে, কিছু অংশ বিক্রি করে সেই টাকা অন্য লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

২. অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি: বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা যুদ্ধের সময় সোনার দাম প্রায়ই আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। অনেক সময় বিনিয়োগকারীদের আবেগের কারণে এই দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে। যদি দেখেন অল্প সময়ের ব্যবধানে সোনার দামে বড়সড় उछাল এসেছে, তবে পুরো সোনা ধরে না রেখে ধাপে ধাপে ‘প্রফিট বুকিং’ করা বা আংশিক লাভ তুলে নেওয়া ভালো কৌশল। মনে রাখবেন, বাজারের সর্বোচ্চ দাম ধরার চেষ্টা করা প্রায় অসম্ভব।

৩. আর্থিক লক্ষ্যের বাস্তবায়ন: সোনা কেনার মূল উদ্দেশ্য যদি হয় বাড়ি কেনা, সন্তানের উচ্চশিক্ষা বা বিয়ের মতো বড় কোনো খরচ মেটানো, তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ হলে সোনা বিক্রি করাই শ্রেয়। অনেক ক্ষেত্রে আরও লাভের আশায় বিনিয়োগকারীরা সোনা ধরে রাখেন, কিন্তু বাজারের গতি যে কোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তাই অর্জিত লাভ কাজে লাগানোই হলো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

৪. বিকল্প বিনিয়োগের হাতছানি: অনেক সময় সোনা বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ সোনার নিজস্ব পারফরম্যান্স নয়, বরং অন্য কোনো লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ। যদি দেখেন শেয়ার বাজার বা অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা সোনার চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় এবং সেখানে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, তবে সোনা বিক্রি করাটা যৌক্তিক।