রাজ্যে ১২৫ ফুট উঁচু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি! বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাজ্যের মানুষের কাছে তাঁর অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এবার একগুচ্ছ বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজ্যে ১২৫ ফুট উচ্চতার এক সুবিশাল মূর্তি স্থাপন করা হবে।
মূর্তি ও স্মারক পার্কের পরিকল্পনা নিউ টাউনে আয়োজিত এক দলীয় কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করেই তাঁর স্মরণে একটি সুবিশাল মূর্তি এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি সুন্দর পার্ক তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে মূর্তিটি ঠিক কোথায় বসানো হবে, সেই স্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শীঘ্রই জানানো হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন। এছাড়া, হুগলিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেয় জমি কিনে একটি আধুনিক স্মারক এবং লাইব্রেরি তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
ইতিহাসের পুনর্পাঠ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালে তাঁর এবং স্বামী প্রণবানন্দের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতভূক্ত হতে পেরেছিল। তারকেশ্বর হিন্দু মহাসম্মেলনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “তদানীন্তন বাংলার হিন্দুরা যাতে পাকিস্তানে না গিয়ে ভারতে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
পশ্চিমবঙ্গ দিবস প্রসঙ্গে স্পষ্ট বার্তা আগের সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘকাল ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দের অবদানকে বিস্মৃতির আড়ালে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে এই ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে ২০ জুন তারিখটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে বাংলার সৃষ্টির আসল ইতিহাস মানুষের মনে গেঁথে থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণা রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে বিশেষ উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।