সবকা সাথ, সবকা বিকাশ: উন্নয়নের নিরিখে মোদি বনাম নেহরু, কার আমলে দেশের চেহারা বদলেছে বেশি?

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের সেই কালজয়ী উক্তি— ‘জনতার দ্বারা, জনতার জন্য এবং জনতার সরকার’। গণতন্ত্রের এই মূলমন্ত্রকে হাতিয়ার করেই ভারত এগিয়ে চলেছে দশকের পর দশক ধরে। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারতের শাসনব্যবস্থায় ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের যাত্রা কতটা সফল? এই প্রশ্ন সামনে রেখেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর শাসনকাল নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মন্ত্রিসভার প্রতিনিধিত্ব: মোদি বনাম নেহরু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের শাসনক্ষমতার ভারসাম্য বদলের চিত্রটি স্পষ্ট। পরিসংখ্যান বলছে, জওহরলাল নেহরুর তৃতীয় মন্ত্রিসভায় অনগ্রসর সমাজের (এসসি) প্রতিনিধিত্ব ছিল নামমাত্র— বড়জোর তিন থেকে চার জন। সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার দিকে তাকালে দেখা যায়, ৬০ শতাংশের বেশি মন্ত্রীই ওবিসি, এসসি এবং এসটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। অর্থাৎ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্টিকে মূলস্রোতে ফেরাতে মোদি সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
নেহরু যুগের উন্নয়ন ও সীমাবদ্ধতা: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু দেশের ভিত্তি স্থাপনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। আইআইটি (IIT), ইউজিসি (UGC)-র মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করা, ভূমিহীন চাষিদের অবস্থার উন্নতি এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে সমালোচকদের মতে, নেহরু আমলে উন্নয়নের সুফল মূলত শহরকেন্দ্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়া ওবিসি বা অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য জাতীয় স্তরে কোনো নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নে নেহরু প্রশাসনের অনীহা ছিল বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। সেই সময় প্রশাসনের উচ্চস্তরে মূলত উচ্চবর্ণ এবং শিক্ষিত অভিজাতদেরই একচেটিয়া দাপট ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানের ভারত: বর্তমানে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি প্রকল্পের সুফল সমাজের শেষ স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। একদিকে যেমন আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণে রেকর্ড গড়ছে দেশ, তেমনই সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে ভারতের বর্তমান গণতন্ত্রের নতুন পথচলা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশ।
ইতিহাসের পাতায় কার অবদান কতটা, তা নিয়ে বিতর্ক চললেও, সময়ের বিবর্তনে ভারতের শাসনব্যবস্থা যে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠেছে, তা বলাই বাহুল্য।