মেয়র পদে ফিরহাদের ইস্তফা, কলকাতা কর্পোরেশনে কি বসছে প্রশাসক? চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৃণমূলে

ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর থেকেই টালমাটাল কলকাতা পুরনিগমের পরিস্থিতি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রবিবার তৃণমূল ভবনে কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হওয়ায় মেয়র নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নতুন মেয়র বেছে নেওয়ার পথ এখন একপ্রকার রুদ্ধ, যার ফলে মঙ্গলবার থেকেই কলকাতা কর্পোরেশনের দায়িত্বভার প্রশাসক বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বোর্ডের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।
কেন এই পরিস্থিতি? ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পুরনিগমের দখল তৃণমূলের হাতে থাকলেও, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের পর দলের অন্দরে ভাঙনের আঁচ স্পষ্ট। বোরো চেয়ারম্যান থেকে মেয়র পারিষদ— একে একে ইস্তফা দিয়েছেন একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি। দলের অন্দরের এই কোন্দল কাউন্সিলরদের একত্রিত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া: পুর আইন অনুযায়ী, বোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না, তা নিয়ে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর কমিশনারকে একটি শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিল। যার জবাব আগামী সোমবার জমা দেওয়ার কথা। উচ্চপদস্থ সূত্রে খবর, সোমবার এই জবাব পাওয়ার পরই ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে, যারা প্রশাসক বা প্রশাসক বোর্ডের নাম সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশ মেনেই রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ: তৃণমূলের তরফে এখনও নতুন মেয়র নির্বাচনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কাউন্সিলরদের রবিবার পর্যন্ত এক জায়গায় আনতে না পারা এবং তৃণমূল ভবনের বৈঠক বাতিল হওয়া— এই দুই ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব সরকারি প্রতিনিধিদের হাতে ন্যস্ত হতে চলেছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।