বিশ্বকাপের মুখে বড় বিতর্ক! ইরানের সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা দিতে অস্বীকার আমেরিকার, ফুঁসছে তেহরান

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। কিন্তু তার আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ল খেলার মাঠে। ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, মার্কিন সরকার তাদের দলের একটি বড় অংশের ভিসা মঞ্জুর করেনি, যা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দলের স্বাভাবিক প্রস্তুতিকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।

মূল অভিযোগ কী? ইরান দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের খেলোয়াড়দের প্রবেশের অনুমতি মিললেও, প্রায় ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও টেকনিক্যাল স্টাফকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে রয়েছেন ফুটবল ফেডারেশনের সেক্রেটারি-জেনারেল হেদায়াত মমবেইনি, মিডিয়া ডিরেক্টর মহসিন মোতামেদকিয়া এবং এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেহেদি খারাতির মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। ইরানের মতে, এটি একটি “সুপরিকল্পিত ও বৈষম্যমূলক” আচরণ।

প্রস্তুতিতে প্রভাব: ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির পরিকল্পনা বদলে ফেলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার পরিবর্তে তারা এখন মেক্সিকোর তিজুয়ানাতে তাদের বেস ক্যাম্প সরিয়ে নিয়েছে। এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের দলটি ম্যাচ খেলার জন্য ম্যাচের দিনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবে এবং ম্যাচ শেষেই আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসবে।

আমেরিকার অবস্থান ও নিরাপত্তা: মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, খেলোয়াড় এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা ইরানকে কোনোভাবেই এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ছদ্মবেশে কোনো সন্ত্রাসী বা ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রবেশ করতে দেবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগেই জানিয়েছিলেন যে, নিরাপত্তার খাতিরে এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ফিফার ভূমিকা: ইরান এই পরিস্থিতির জন্য ফিফার সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের দাবি, আয়োজক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিফার নিয়ম এবং আয়োজক দেশের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফিফা বা মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চলেছে ইরান। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের এই জটিলতা দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে।