বারাণসীতে বড় সিদ্ধান্ত! ৬ মাসের মধ্যে শহরের বাইরে সরছে মাছ-মাংসের দোকান, নজরে ফলের বাজার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় কেন্দ্র বারাণসীকে আরও আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে বড়সড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল যোগীরাজ্যের প্রশাসন। বারাণসী পুরসভার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে শহরের ভেতর থেকে সব মাছ, মাংস ও মুরগির দোকান সরিয়ে শহরের উপকণ্ঠে বা শহরের বাইরের দিকে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তর করা হবে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? বারাণসীর মেয়র অশোক কুমার তিওয়ারির সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পুরনিগমের মতে, শহরের নগর পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে এবং জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর পবিত্র ‘শ্রাবণ মাস’ বা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের সময় শহরের মূল রাস্তার উপর মাছ-মাংসের দোকান থাকা নিয়ে ক্রেতা, দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রায়ই আইনি জটিলতা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই পুরসভা এবার এই মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করতে চলেছে।

ফলের বাজার বাড়বে? শহরের ভেতর থেকে মাংসের দোকান সরিয়ে ফেলার পর সেখানে কী ধরণের দোকান বসবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, শহরের যে জায়গাগুলোতে মাছ-মাংসের দোকান ছিল, সেখানে মূলত ফলের বাজার বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার। এর ফলে শহর আরও ছিমছাম হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও এক সুশৃঙ্খল পরিবেশ পাবেন।

পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা (Phased Plan) পুরসভা সূত্রে খবর, রাতারাতি এই পরিবর্তন আসছে না। আগামী ৬ মাস ধরে পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনার (Phased plan) মাধ্যমে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য শহরের বাইরে নির্দিষ্ট ও চিহ্নিত জায়গা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তাঁদের ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়।

আধুনিক বারাণসী গড়ার লক্ষ্যে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের এই পদক্ষেপকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ স্বাগত জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।