ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে যৌনকর্মীদের ‘চাহিদা’ তুঙ্গে, বুকিং নিয়ে তোলপাড়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবল উন্মাদনায় ভাসছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সি শহরে এই উৎসবের পাশাপাশি নতুন এক উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে যৌনসেবা শিল্পের বাড়তি তৎপরতা। ফুটবলপ্রেমীদের এই বিশাল জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে সেখানে যৌনকর্মীদের বুকিং বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাড়ছে বুকিংয়ের হিড়িক নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালসহ মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের অনুমান, এই অঞ্চলে প্রায় ১২ লাখ বিদেশি দর্শকের সমাগম হবে। আর এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমনকে সামনে রেখে নিউ ইয়র্ক ও নিউ জার্সির এসকর্ট ও যৌনকর্মীরা আগাম বুকিং শুরু করে দিয়েছেন। পরিচয় গোপন রাখা এক যৌনকর্মী জানান, মে মাস থেকেই তার অনলাইন প্রোফাইলে যোগাযোগের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে। বিশেষ করে দম্পতিদের কাছ থেকে অনুরোধ আসার হার অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপর এক এসকর্ট কর্মী ‘স্পাইস ভি’ জানিয়েছেন, লন্ডন ও কলোরাডো থেকে ক্লায়েন্টরা এরই মধ্যে তাকে অগ্রিম বুকিং দিয়ে রেখেছেন।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা বনাম মানবপাচার বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলো পর্যটন, হোটেল ও পরিবহন শিল্পের পাশাপাশি বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সেবাখাতেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম চাঙ্গা করে তোলে। তবে এবারের বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে যৌনসেবার প্রসারের সঙ্গে মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
নিউ জার্সি স্টেট অ্যাসোসিয়েশন অব চিফস অব পুলিশের সভাপতি অ্যান্ড্রু ক্যাজিয়ানো জানান, জননিরাপত্তার পাশাপাশি মানবপাচার এই সময়ে একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের সময় সন্ত্রাসবাদ বা চুরির মতো ঘটনার দিকে যেমন নজর থাকে, তেমনি মানবপাচারের মতো অপরাধগুলোও দ্রুত বিস্তার লাভ করার সম্ভাবনা থাকে।’’
প্রশাসনের সতর্কবার্তা মানবপাচারের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। গত ১১ মে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধ দমন সংস্থা ‘ফিনসেন’ (FinCEN) একটি বিবৃতিতে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের বাড়তি অর্থনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা যৌন বা শ্রমভিত্তিক মানবপাচার বাড়িয়ে দিতে পারে। নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ড্যাভেনপোর্টের মতে, এই আসরটি তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিউ জার্সি স্টেট পুলিশ বিশ্বকাপের সময় ১,২০০-এরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। ফুটবলবিশ্বের সবথেকে বড় এই আসরকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধ জগতের এই বিপরীতমুখী প্রবণতা এখন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।