“অস্ত্র সরবরাহ করেছিল ‘টাইগার’!”-চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে জালে আরও দুই দুষ্কৃতী

শুভেন্দু অধিকারীর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডে তদন্তে বড়সড় সাফল্য পেল সিবিআই। বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের বালিয়া থেকে ‘গোলু সিং’ ওরফে ‘টাইগার’ এবং তার সহযোগী জ্ঞানেন্দ্র সিং ওরফে ‘মনু’কে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই গ্রেপ্তারি খুনের রহস্যভেদে নতুন মোড় এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
কীভাবে এল সাফল্য? সিবিআই সূত্রে খবর, অভিযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র সিং ওরফে মনু তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়ার একাধিক মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে বালিয়ার আদালতে আত্মসমর্পণ করে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে তৎপর হয় সিবিআই। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের বলিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গোলু সিং ওরফে টাইগারকে। ধৃতদের মধ্যে গোলুকে কলকাতার আনার জন্য ৪৮ ঘণ্টার ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বালিয়ার আদালত।
খুনে ভূমিকা কী ছিল গোলুর? কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, গোলু সিং মূলত চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করেছিল। শুধু অস্ত্র জোগানোই নয়, সেটি অপরাধস্থলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সে সরাসরি যুক্ত ছিল বলে সিবিআইয়ের কাছে তথ্য রয়েছে। সিবিআইয়ের আশা, গোলুকে জেরা করলেই এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল মাথা এবং অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য মিলবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দুদিন পরেই মাঝরাস্তায় গাড়ির মধ্যে এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার সময় গাড়ির চালকও গুরুতর জখম হয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও, পরে মামলাটি সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে এই মামলায় রাজকুমার সিং এবং বারাণসী থেকে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
গোটা হত্যাকাণ্ডে উত্তরপ্রদেশ সংযোগ বারবার সামনে আসায় সিবিআই সেখানে ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। একের পর এক শুটার ও অস্ত্র সরবরাহকারী গ্রেপ্তারের ফলে এখন এই মামলার কিনারা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।