চলন্ত গাড়িতে পুরুষকে ধর্ষণ! ৪ মহিলার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জলন্ধরে

ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলাদের ওপর নির্যাতনের খবর আমাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি পঞ্জাবের জলন্ধর থেকে সামনে আসা একটি ঘটনা গোটা দেশের আইন ও সমাজ ব্যবস্থায় নতুন এক বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিযোগ, চার মহিলা মিলে এক ব্যক্তিকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছেন!
ঘটনার প্রেক্ষাপট অভিযোগকারীর বয়ান অনুযায়ী, জলন্ধরের রাস্তায় এক মহিলা পথ নির্দেশ চাওয়ার নাম করে ওই ব্যক্তির কাছে এগিয়ে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ব্যক্তি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর মুখে অজানা কোনো স্প্রে করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে জোর করে একটি গাড়িতে তোলা হয়, যেখানে আগে থেকেই আরও তিন জন মহিলা উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, গাড়িতে তোলার পরই তাঁকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়। এরপর সেই চলন্ত গাড়ির ভেতরেই চার মহিলা মিলে তাঁকে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে বিতর্ক ভারতে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের আইন মূলত মহিলাদের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করেই তৈরি। দেশের আইনে ধর্ষণ বলতে সাধারণত পুরুষ কর্তৃক মহিলার ওপর ঘটা অপরাধকেই বোঝানো হয়। কিন্তু এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, যৌন অপরাধের শিকার কেবল মহিলারা নন, পুরুষরাও হতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা অনেক বেশি। রূপান্তরকামী বা সমকামী মানুষের পাশাপাশি, পুরুষদের ওপর হওয়া যৌন হেনস্থার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নতুন আইনের দাবি জলন্ধরের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য দেশে কঠোর আইন থাকলেও, পুরুষদের সুরক্ষায় কোনো শক্তিশালী আইনি কাঠামো না থাকায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই এখন দাবি তুলছেন, লিঙ্গ নির্বিশেষে যৌন নির্যাতনের অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য আইনকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) ও আধুনিক করে তোলা উচিত।
পঞ্জাব পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দোষীরা সত্যিই এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা লিঙ্গসাম্যের সংজ্ঞাকে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিচ্ছে।