AI-কি মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়িয়ে যাবে? সকলকে সতর্ক করলো অ্যানথ্রপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল জনপ্রিয় এআই মডেল ‘ক্লড’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি সতর্ক করে বলেছে, অদূর ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে মানুষ আর সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
কী এই ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’? অ্যানথ্রপিকের মতে, ‘ফুল রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা ‘পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় আত্ম-উন্নয়ন’ হলো এআই-এর এমন এক পর্যায়, যেখানে কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই একটি এআই সিস্টেম নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয়, সে নিজের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও উন্নত ‘উত্তরসূরি’ এআই তৈরি করতে পারবে। এটি প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বিশাল বাঁকবদল হতে পারে, যা একদিকে যেমন চিকিৎসা বা বিজ্ঞানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি করতে পারে অস্তিত্ব রক্ষার সংকট।
নিয়ন্ত্রণই হবে মূল চ্যালেঞ্জ অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কোডবেসের ৮০ শতাংশেরও বেশি কোড লিখছে ‘ক্লড’ এআই নিজেই। অর্থাৎ, এআই এখন নিজের কাঠামো তৈরির কাজও করে ফেলছে। ফিউচার শিফট ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাগর বিষ্ণোই বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে এআই যখন নিজের কোড নিজেই লিখতে শুরু করবে, তখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে সেটিকে মানুষের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা। সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এটি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে।’’
‘বিরতি’ নাকি ‘গতি’—দ্বন্দ্বে বিশ্ব এই ঝুঁকি মোকাবিলায় অ্যানথ্রপিক বিশ্বের সব এআই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে উন্নত মডেল তৈরিতে সাময়িক বিরতি বা ‘পজ’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রযুক্তি মহলে দ্বিধাবিভক্ত মত রয়েছে:
-
বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়: এআই বিশেষজ্ঞ ড. শ্রীনিবাস পদ্মনাভুনির মতে, তাত্ত্বিকভাবে বিরতির ধারণাটি ভালো শোনালেও বাস্তবে এটি প্রয়োগ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, প্রতিযোগিতার বাজারে কোনো প্রতিষ্ঠানই চাইবে না তারা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়ুক।
-
সদিচ্ছার অভাব: অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এলএলএম (LLM) চুক্তির মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রটোকল থাকা উচিত, কিন্তু প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ এখানে বড় বাধা।
-
অন্য দৃষ্টিভঙ্গি: শর্টহিলস এআই-এর প্রেসিডেন্ট পবন প্রভাত অবশ্য অতটা আতঙ্কিত নন। তাঁর মতে, এআই যদি কখনো মানুষের জন্য হুমকি হয়ে ওঠে, মানুষ সবসময়ই তার ‘পাওয়ার সুইচ’ বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রাখে।
ভবিষ্যৎ কী? প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন প্রশ্ন। এআই কি মানুষের তৈরি প্রযুক্তি হিসেবেই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে নিজেই নিজের ভাগ্য নির্ধারণকারী হয়ে উঠবে? অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, তারা আগামী কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক ও গবেষকদের নিয়ে আলোচনা করবে যাতে এআই-এর ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি আন্তর্জাতিক সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়।
বর্তমানে প্রযুক্তি দুনিয়ার বড় প্রশ্ন হলো—এই ‘স্বয়ংক্রিয় এআই’ মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ হবে, নাকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে তৈরি করবে টার্মিনেটরের মতো পরিস্থিতি?