“ইথানলেই চলবে বাইক!”-ভারতে আসছে রয়্যাল এনফিল্ড ও ইয়ামাহার ফ্লেক্স-ফুয়েল বাইক!

ভারতের টু-হুইলার বাজারে আসছে এক নতুন বিপ্লব। বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) পাশাপাশি এবার পরিবেশবান্ধব পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাচ্ছে ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ প্রযুক্তি। রয়্যাল এনফিল্ড, ইয়ামাহা এবং সুজুকির মতো दिग्गज মোটরসাইকেল নির্মাতারা ইথানল-চালিত ইঞ্জিন তৈরির কাজে জোর দিয়েছে, যা আগামী দিনে পেট্রোলের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

কী এই ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তি? ইথানল হলো আখ, ভুট্টা বা শস্য থেকে তৈরি একটি নবায়নযোগ্য জৈব জ্বালানি। ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিনের বিশেষত্ব হলো এর নমনীয়তা। এই ইঞ্জিনে চালক প্রয়োজনমতো পেট্রোল কিংবা উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করতে পারবেন। পরীক্ষামূলকভাবে রয়্যাল এনফিল্ড ‘ই৮৫’ প্রযুক্তির ওপর কাজ করছে, যেখানে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল ব্যবহার করা সম্ভব।

কেন ইথানল-চালিত বাইক ভবিষ্যতের ভরসা? ১. সাশ্রয়ী: পেট্রোলের তুলনায় ইথানল উৎপাদনের খরচ অনেক কম। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাইক চালানোর খরচ অনেকটাই কমে যাবে। ২. আমদানি হ্রাস: অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর ভারতের মতো দেশগুলোর যে বিশাল অর্থনৈতিক চাপ থাকে, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইথানল তা অনেকটাই লাঘব করবে। ৩. পরিবেশ সুরক্ষা: প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় ইথানল কার্বন নিঃসরণ কম ঘটায়, যা বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।

কোন পথে হাঁটছে জনপ্রিয় সংস্থাগুলো?

  • রয়্যাল এনফিল্ড: সংস্থার একাধিক মডেলকে ইথানল-উপযোগী করার জন্য জোরকদমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

  • ইয়ামাহা ও সুজুকি: জনপ্রিয় কমিউটার ও প্রিমিয়াম সেগমেন্টের বাইকগুলোতে এই প্রযুক্তি যুক্ত করার জন্য গবেষণা চালাচ্ছে ইয়ামাহা এবং সুজুকি। কিছু মডেল এরই মধ্যে রাস্তায় পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।

ভবিষ্যতের মোটরসাইকেল বাজার: বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং পরিবেশগত সচেতনতার কারণে আগামী দশকে ফ্লেক্স-ফুয়েল মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় বিকল্প হয়ে উঠবে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরাসরি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সহজলভ্য হলে এই প্রযুক্তির প্রসার ঘটবে আরও দ্রুত।

পেট্রোলের বিকল্প হিসেবে এই ইথানল-চালিত ইঞ্জিনের উদ্ভাবন কেবল মোটরসাইকেল শিল্পেই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি কাঠামোতে এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে।