মাঠের হাল ধরে এখন নবান্নে! বিধায়ক হয়েও রোজ কৃষিকাজ করেন নতুন মন্ত্রী দিবাকর ঘরামী

রাজ্য মন্ত্রিসভায় ভারসাম্য বজায় রাখতে এবার বড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আদিবাসী, মতুয়া ও রাজবংশী সমাজের পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন বাঁকুড়ার সোনামুখীর এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান দিবাকর ঘরামী। বিধায়ক হওয়ার পরেও যাঁকে আজও প্রতিদিন ভোরে মাঠে গিয়ে চাষের কাজে অংশ নিতে দেখা যায়, সেই দিবাকরের মন্ত্রী হওয়ার খবরে এখন খুশির হাওয়া গোটা বাঁকুড়ায়।
দারিদ্র্য ও সংগ্রামের ইতিহাস
দিবাকর ঘরামীর জীবনসংগ্রাম শুরু হয়েছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগের সময় থেকেই। বরিশালের ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁর দাদু-ঠাকুমা আশ্রয় নিয়েছিলেন বাঁকুড়ার সোনামুখীর দামোদর নদের তীরবর্তী কুরুমপুর গ্রামে। সেখানেই অভাবের সংসারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা দিবাকরের। চাষাবাদই ছিল পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। সেই মাটির গন্ধ মাখানো মানুষটিই আজ রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দে।
বিধায়ক হওয়ার পরেও বদলায়নি রুটিন
২০২১ সালে সোনামুখী বিধানসভা থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হওয়ার পরেও দিবাকর ঘরামী তাঁর শিকড়কে ভোলেননি। আজও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে মাঠে যান। ফসলে জল দেওয়া কিংবা পরিচর্যা—সবটাই তিনি নিজের হাতে করেন। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেও তিনি জানালেন, মানুষের হয়ে কাজ করাই তাঁর একমাত্র ব্রত।
কী বললেন নতুন মন্ত্রী?
মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার পর বিনম্র দিবাকর জানান, “দল এত বড় সম্মান দেবে ভাবিনি। সোনামুখীর উন্নয়নের জন্য আমরা এতদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়া একমাত্র বিজেপির পক্ষেই সম্ভব।”
প্রত্যাশার পারদ
একজন কৃষক যখন মন্ত্রী হন, তখন সেই পেশার মানুষের আবেগ স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বেড়ে যায়। বাঁকুড়ার মানুষ মনে করছেন, কৃষকের চোখের ভাষা দিবাকর বুঝবেন সবচেয়ে ভালো। তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি কেবল এক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
এখন সোনামুখীর মানুষের প্রশ্ন—দিল্লির বা নবান্নের কাজের চাপের মধ্যেও তিনি কি তাঁর প্রিয় ক্ষেত-খামারের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন? উত্তরটা সম্ভবত দিবাকর তাঁর আগামী কর্মজীবনেই দেবেন।