আবাস যোজনার কাটমানি ফেরত চেয়ে তৃণমূল মেম্বারের বাড়িতে চড়াও গ্রামবাসীরা! উত্তপ্ত বসিরহাট

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের সাকচুড়া বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাটমানি বিতর্কে তুঙ্গে উত্তেজনা। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য টুম্পা রায় ও দুলাল দাসের বাড়িতে চড়াও হলেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। রবিবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকা।

কী অভিযোগ গ্রামবাসীদের?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সবুজপল্লী ধলতিথা গ্রামের বাসিন্দা ওই দুই পঞ্চায়েত সদস্য এবং তাঁদের স্বামীরা বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১০, ১৫ এমনকি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নিয়েছেন। এর প্রতিবাদেই এদিন মিছিল করে বিজেপি নেতা-কর্মী ও গ্রামবাসীরা তাঁদের বাড়িতে হাজির হন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

কী সাফাই দিলেন পঞ্চায়েত সদস্য?
নিজের বাড়িতে দাঁড়িয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য টুম্পা রায় বলেন, তিনি কাটমানির টাকা নেননি। তাঁর বিপুল সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, লোন নিয়েই তিনি বাড়ি-গাড়ি করেছেন। তবে কীসের ভিত্তিতে বা কী দেখিয়ে তিনি এত বড় লোন পেলেন, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। উল্টে উত্তেজিত হয়ে তিনি কাটমানির অভিযোগ অস্বীকার করে চিৎকার করতে শুরু করেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
সাকচুড়া বাগুন্ডি মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি টুকাই পাল জানান, তাঁরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাটমানির শিকার হওয়া মানুষের তালিকা তৈরি করছেন এবং সেই তালিকা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি নেতাদের হুঙ্কার, যারা সাধারণ মানুষের টাকা কেড়ে নিয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে সেই টাকা ফেরত দিতে হবে।

প্রশাসনের ভূমিকা:
ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামবাসীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আবাস যোজনার দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে যখন রাজ্য সরকার চাপের মুখে, তখন বসিরহাটের এই ঘটনা নতুন করে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।