লড়কি বেহেন যোজনায় বড় কোপ! বাদ পড়লেন ৮০ লক্ষ নারী, ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধী শিবির

মহারাষ্ট্র সরকারের জনপ্রিয় ‘লড়কি বেহেন যোজনা’ নিয়ে বড়সড় ধাক্কা। কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করতে ব্যর্থ হওয়া এবং প্রকল্পের শর্তপূরণে অক্ষম—এই দুই কারণে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৮০ লক্ষ নারীকে এই প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ২ কোটি ৪০ লক্ষ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষে।

কেন এই ছাঁটাই?
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেবল কেওয়াইসি-র অভাব নয়, আরও একাধিক কারণে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে সুবিধাভোগীদের:

আয়ের ঊর্ধ্বসীমা: ১২ লক্ষ নারীর বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি।

বয়সের সীমাবদ্ধতা: প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ নারীর বয়স ৬৫ বছরের বেশি।

অন্য প্রকল্পের সুবিধা: প্রায় ৫ লক্ষ নারী ইতিমধ্যেই ‘নমো শেতকারী’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
সরকারি দাবি, ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার জন্য সুবিধাভোগীদের টানা আট মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমার মধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লক্ষ নারী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াটি শেষ করতে পারেননি।

সরকারের ওপর বিরোধীদের আক্রমণ
এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেস নেতা বিজয় ওয়াদেত্তীওয়ার সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’-র অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, “এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র ভোট পাওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল।”

এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে বিষয়টিকে সরকারের ‘সম্মিলিত ব্যর্থতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি এই ৮০ লক্ষ নারী অযোগ্যই হন, তবে গত দেড় বছর ধরে কেন তাঁদের সরকারি তহবিল দেওয়া হলো? করদাতাদের অর্থের এমন অপচয়ের দায় কে নেবে?” তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে যাচাই বাছাই ছাড়াই প্রকল্পটি চালু করাই ছিল সরকারের বড় ভুল।

রাজনৈতিক উত্তাপ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে এতো বড় সংখ্যক মানুষকে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ দেওয়া শাসক জোটের (মহাযুতি) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। নারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভ ও হতাশা আগামী দিনে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।