অভিষেককে হেনস্থা কি জনরোষ? নবান্নে বিস্ফোরক মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা ও হেনস্থার ঘটনা নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি এই ঘটনাকে ‘জনরোষের প্রতিফলন’ বলে অভিহিত করেন। তবে একই সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের সংযত থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূল কার্যত একটি উঠে যাওয়া পার্টি। ফলতার ভোটে তারা চতুর্থ হয়েছে। এই দল এখন সস্তার প্রচার পেতে চাইছে।” তিনি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় আর্জি জানান, তারা যেন কোনোভাবেই আইন হাতে তুলে না নেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কোনোভাবে তাদের লোকেদের বিক্ষোভ দেখিয়ে বা আইন হাতে তুলে নিয়ে সস্তার প্রচার করার সুযোগ করে দেবেন না।”

‘এটি জনরোষ’
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল বিধায়ক বা কাউন্সিলরদের অফিস থেকে সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের যে খবর সামনে আসছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, “সব জায়গায় যে বিক্ষোভ হচ্ছে, তার সঙ্গে রাজনৈতিক দল যুক্ত নয়। এটা জনরোষ।” তাঁর মতে, রাজ্যে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রশাসন ও পুলিশ আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। মানুষ এই ‘বদল’টাই চেয়েছিলেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিহিংসার অভিযোগ নস্যাৎ
তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণতার’ অভিযোগ আনা হচ্ছে, তাও এদিন নবান্নের বৈঠকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, সরকার কোনো প্রতিহিংসার পথে হাঁটছে না, বরং রাজ্যে আইনের শাসন কায়েম করতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তাই নেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসনের কড়া বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তৃণমূল নেতাদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনাকে সরকার সমর্থন করে না। তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা অভিযোগ জানান, প্রশাসন নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে।”

সোনারপুরের ঘটনার পর রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে। একদিকে বিরোধী শিবিরের দাবি এটি জনরোষের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ এটি পরিকল্পিত আক্রমণ। সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ ও আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।