তিন বছরেই দ্বিগুণ ইন্টারনেট ব্যবহার! ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রেকর্ড গড়ল ভারতীয় মহিলারা

ভারতের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে মহিলাদের অগ্রগতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল ষষ্ঠ জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা (এনএফএইচএস-৬) রিপোর্ট। শুক্রবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত তিন বছরে ডিজিটাল পরিষেবা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ভারতীয় মহিলারা অভূতপূর্ব উন্নতি করেছেন।
ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নের খতিয়ান:
ইন্টারনেট ব্যবহার: ২০১৯-২০২১ সালের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, ৩৩.৩ শতাংশ মহিলা অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৬৪.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আর্থিক স্বাধীনতার বড় সূচক হলো নিজস্ব ব্যাঙ্ক বা সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট। ২০১৯-২০২১ সালে এই হার ছিল ৭৮.৬ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
মোবাইল ফোন: ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারের হারও ৫৩.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৩.৬ শতাংশ হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচেতনতায় অগ্রগতি:
রিপোর্টে ১৫-২৪ বছর বয়সী মহিলাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধি (Menstrual Hygiene) চর্চার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগ এবং জনৌষধি প্রকল্পের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সহজলভ্য হওয়ায় স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৭৭.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৯.২ শতাংশ হয়েছে।
মন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ ও চ্যালেঞ্জ:
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এই সাফল্য ভারতের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রতিফলন। তবে মন্ত্রক সতর্কবার্তাও দিয়েছে। বর্তমানে অসংক্রামক রোগ, জীবনযাত্রাজনিত ঝুঁকি এবং স্থূলতার সমস্যা ক্রমবর্ধমান। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সুষম পুষ্টি ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর আরও বেশি জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সমীক্ষার পরিধি:
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি ভারতের ৭১৫টি জেলার প্রায় ৬.৭৯ লক্ষ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জেলা স্তর পর্যন্ত এই তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক পরিকল্পনা ভারত সরকারের আগামী দিনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সামগ্রিকভাবে, এনএফএইচএস-৬-এর এই রিপোর্ট ভারতের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের পথে বড় সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির এই ধারা বজায় থাকলে ভারতের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।